আল্লাহ্ ওগো আল্লাহ্ ক্ষমা করে দাও মাফ করে দাও | Khoma Kore Dao Maf Kor...
নুরুঃ আরে ওই ছেমরির কথা বিশ্বাস করাডা ঠিক হয় নাই,, হুদাই আমাগো এইহানে ডাকছে
কাদিরঃ একবার পাইয়া লই,, মনের জ্বালা সব মিটামু মাগির উপরে,,
মামুনঃ আরে ওই দেখ আসতেছে মাগি,,,
সবাই খুশি হয়ে গেলো,, ফুজি ওর সংগে আরো ২ জন জলপড়ী নিয়ে এসেছে মানুষ রূপে,,
ওরা তো তিনজন কে দেখে মহা খুশি,,, কেউ কারো থেকে কম সুন্দরী নয়,, কাকে রেখে কাকে ধরবে,, সেই চিন্তা করতে লাগলো
ফুজিঃ কি হলো বীরপুরুষরা,, অবাক হচ্ছো নাকি?
আজ তোমাদের চাহিদা মন মতো মিটিয়ে দেওয়ার জন্যই আমার বান্ধবীদের ও সঙ্গে নিয়ে আসছি
নুরুঃ এতো দেখি মেঘ না চাইতে, বৃষ্টি আইয়া পরছে
ফুজিঃ তো সময় কি কথা বলেই নষ্ট করবা?
মামুনঃ চিন্তা করতাছি কারে নিয়া আগে খেলা টা শুরু করমু
জলপড়ীরা ওদের কথা শুনে হাসতেছে,,
ফুজিঃ একটা শর্ত আছে,, আমরা এখন একটা খেলা খেলবো,,
আমরা তিন বান্ধবী লুকাবো এই হিজল গাছ গুলোর আশে পাশে,
তোমরা আমাদের খুজে বের করবে,, যে যাকে পাবে,, সে আজকের জন্য তার হয়ে যাবে
ওরা তিনজন খুশিতে রাজি হয়ে গেলো,,
ফুজি আর বাকি দুই জলপড়ী লুকিয়ে গেলো,,
রাইসা নেমে আসলো গাছের আগা থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ,,
নুরু দেখলো,, একজন পিছনে ফিরে দাড়িয়ে আছে,, ও গিয়ে পিঠে হাত রাখতেই,, মেয়েটি ওর দিকে ফিরে তাকালো,, এই ঘুটঘুটে অন্ধকারেও ও দেখলো রাইসার চেহারাটা সাদা হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে,,,
নুরু ভয় পেয়ে দিলো দৌড়,,, ওর মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না,,,
ঘাটে গিয়ে দেখে নৌকায়ও রাইসা বসে আছে,,, ও আবার দিলো পিছন দিকে দৌর,,
কাদির, মামুন,,আর নুরু দৌড়ে দৌড়ে পালাতে লাগলো,,কিন্তু ওরা কোন পথ খুজে পাচ্ছে না,,
জলপড়ী গুলোও ওদের ভয় দেখাচ্ছে,,
একটু পরে তিনজন দৌড়ে একজায়গায় এসে থামলো,, তারপর সবাই বললো আমরা রাইসার আত্মার পাল্লায় পরেছি,, এখন যেভাবে হোক এখান থেকে পালাতে হবে,,
ওরা তিনজন ভয়ে একাকার হয়ে আছে,,
সামনে এগুতেই দেখলো তিনজন জলপড়ী আর রাইসা আসতেছে ওদের দিকে,,, ওরা এখান থেকে নরতে পারতেছো না,, ওদের পা গুলো জমে গেছে,,
ওরা চিৎকার করতেছে আর বলতেছে মাফ করো আমাগো,, ছাইরা দেও,, আর কোনদিন ও এমন ভুল করমু না
রাইসা কাছে এসে,, দাড়ালো,,আর সবার দিকে রাগান্বিত হয়ে তাকিয়ে বললো,,
রাইসাঃ মাফ করবো তোদের? তোরা আমার বিশ্বাস এর সুযোগ নিয়ে কতো বড় বেঈমানী করেছিলি মনে আছে?
নুরুঃ আমারে ছাইরা দেও,, আমি আর কোনদিন ও এমন খারাপ কাম করমু না
রাইসাঃ এভাবে কতো আকুতি মিনতি করছিলাম আমিও,, তোরা কি আমারে মাফ করছিলি?
তিনজন ই আর্তনাদ করতেছে
ফুজিঃ তুমি ওদের কথা কেনো শুনতেছো,, ওদের শাস্তি দাও,, ওরা ওদের প্রাপ্য শাস্তি ভোগ করুক
রাইসাঃ ওরা আমাকে ১২ টা বছর ধরে অতৃপ্ত করে রাখছে,, আমার পরিবার কে অশান্তি দিয়েছে,, আমার সাজানো স্বপ্ন গুলো ভেঙে চুরমার কইরা দিছে,,,
জলপড়ীরা বললো,, তুমিও এই নরপিশাচ দের এমন ভাবেই শাস্তি দাও
রাইসা ধরলো মামুন কে,,,
ফুজি রাইসার হাতে জাদু দিয়ে গরম একটা লোহার রড দিলো,,
রাইসা মামুনকে উপরে তুলে,, ওর পায়ুপথ দিয়ে গরম রড টা ঢুকিয়ে দিলো,,,
মামুন চিৎকার করতেছে,,, আর মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগ করতেছে,,,
নুরু আর কাদির এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে আরো জোরে জোরে কাদতে লাগলো,,
মামুনকে হিজল গাছের ডালে,, ফাঁশিতে ঝুলিয়ে দিলো
এবার ফুজি টেনে আনলো নুরু কে,,
বললো,,এই হারামির ব্যবস্থা করো এখন
নুরু ছটফট করতেছে,, আর রাইসা ওর মুখ দিয়ে গরম রড ঢুকিয়ে দিলো,,, এল নিমিষেই নুরু মরে গেলো,, ওর ভেতরের কলিজা,, হৃদপিন্ড সব জ্বলে গেছে,,
নুরু কেও মামুন এর পাশে গাছর ডালে ঝুলিয়ে দিলো,,
এবার জলপড়ী রা ধরে আনলো কাদির কে,,
কাদির রাইসার পায়ের কাছে বসে মাফ চাইতে লাগলো,,
ফুজি বললো,, ওকে শেষ করে,, তোমার অতৃপ্ত আত্মার মুক্তি নাও রাইসা,,
রাইসা ওর কান দিয়ে গরম রড ঢুকিয়ে দিলো,,
কাদির ও মরে পরে রইলো,, জলপড়ীরা ওদের লাশগুলো হিজল গাছের ডালে ঝুলিয়ে দিলো,,,
রাইসা কান্না করতেছে,, আর জলপড়ী ফুজি কে ধন্যবাদ জানালো,,,
ফুজি বললো,, তোমার পরিবার নিয়ে কোনো চিন্তা করো না,, তাদের দেখাশোনা করার জন্য ও সংসারের অভাব দুর করার জন্য আমি সব ব্যবস্থা করবো
জলপড়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে,, ওদের থেকে বিদায় নিয়ে রাইসা অন্ধকারে মিশে গেলো,,
ফুজি আর ওর বান্ধবীরা রাইসার আত্মা কে মুক্তি দিয়ে খুশি হলো,, সেই সংগে এই নরপিশাচদের শাস্তি দিয়ে ওরাও নিজেদের ধন্য মনে করলো,,,
সকাল বেলা আশেপাশের সাত গ্রামো খবর ছরিয়ে পরলো,, তিনটা লাশ পাওয়া গেছে বিলের হিজল তলায় ঝুলন্ত অবস্থায়,,
সবাই গিয়ে দেখলো খুব নির্মম গণহত্যা করা হয়েছে,,
রাইসার মা বাবা আর হাসান যখন জানতে পারলো ওরা তিনজন মারা গেছে,, তখন ওরা একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো,, নিজেদের পাপের ফল ভোগ করেছে,,,
সামি ও খুশি হলো,, যে এতো বছর পরে ওরা তাহলে শাস্তি টা পেয়েছে,,
বিলটা আবারো মানুষের মনে ভয়ের জায়গা হয়ে গেলো,,
এই সুযোগে জলপড়ীরা পানিতে ইচ্ছে মতো আনন্দ করতে লাগলো,,
রাতে সামিকে ওর মা বললো,, এই বিলে যাইস না,, দিন কাল ভালা না
সামিঃ আরে মা,,ভয় পাও কেনো,, তোমার দোয়া থাকতে আমার কিছুই হইবো না,, এই বিলের মাছ ধরেই তো আমাগো দিন ফিরছে
সামি নৌকা বেয়ে চললো,,, বিলে প্রবেশ করেই ফুজি কে ডাকলো,,
ফুজি আসলো,, আজ একটু ভিন্ন সাজে এসেছে, আগের থেকে বেশি অপরুপা লাগতেছে,,
সামি ওর দিকে তাকিয়ে আছে,,
ফুজিঃ কি দেখো এমন করে মাঝি?
সামিঃ তোমারে দেখি,, তোমার সৌন্দর্য দেখি
ফুজিঃ নজর লাগবে তো মাঝি
সামিঃ কিন্তু তোমাকে দেখলে তো আমার নেশা লাগে,,
ফুজিঃ হইছে বাবা,, এইবার থামো,,
এই শোনো,, রাইসার পরিবারকে কিভাবে সাহায্য করা যায়,, বলতো
সামিঃ আমি কেমনে কমু,, আমিতো এইসব ব্যাপারে কিছু জানি না
ফুজিঃ আরে বুদ্দু,, একটা বুদ্ধি তো দাও।
সামিঃ কিছু টেকা পয়সা দিলে,, ভালা হয়,, খাইতে চলতে পারবে,,
ফুজিঃ তুমি ঠিক বলেছো,,আমি রাইসাকে কথা দিয়েছি ওর পরিবারকে দেখবো
সামিঃ তাইলে ওর বাপরে বাজারে একটা দোকান লইয়া দেও,, সারাজীবন ব্যবসা কইরা খাইতে পারবো
ফুজিঃ হুম,, ভালো বলছো
সামিঃ আর হাসানের জন্য কি চিন্তা ভাবনা করলা?
ফুজিঃ ভালো কথা বলেছো,, এই বেচারিও তো ১২ টা বছর ধরে অপেক্ষা করে আছে,,
উনার কি করা যায়?
সামিঃ উনি তো শহরের মানুষ, উমারে শহরে একটা ভালা ব্যবসা ধরাইয়া দাও আর ভালা একখান মাইয়া দেইখা বিয়া করাইয়া দাও,,
ফুজিঃ এতো বুদ্ধি কোথায় রাখো,, মাঝি?
সামিঃ কি জে কও,,
ফুজিঃ ঠিক আছে,, তাহলে এই ব্যবস্থাই করতে হইবো তোমার
সামিঃ আমি কেমনে করমু?
ফুজিঃ সেটা পরেই বুঝবা,,
এখন আমাকে একটু বুকে টেনে নাও,,মাঝি
সামির কোলে মাথা রেখে ফুজি শুয়ে পরলো,,
সামিও ওর শরীরে ঘ্রান শুকে,, সৌন্দর্য উপভোগ করতে লাগলো,,
ফুজিঃ একটা গান শোনাও মাঝি,,
সামি গলা ছেরে গান গাইতে লাগলো,,
জলপড়ীরা সামির গানের সুরে নাচতে লাগলো,,,
চলবে,,,