আজ আছি কাল থাকবো না রে | Aj Achi Kal Thakbonare | বাংলা নতুন গজল | Rajiy...

(আগের পর্বের পরে)
তীব্র মি,চৌধুরী কে সব কিছুর বন্দবস্ত করতে বলে বিছানায় যেয়ে আধশোয়া হয়ে বসল।।তারপর ভাবতে লাগলো।। এখন ওর কি করা উচিত,, কি করে তরীকে ও সেফ রাখবে।।আর তাছাড়া কইদিনের ভিতরে ওকে ঢাকায় যেতে হতে পারে।। তখন ও তরীকে কার কাছে রেখে যাবে,,,আবার তরীকে এত তারাতারি ঢাকায় নিয়ে যাওয়াও তরীর জন্য সেফ না।।।। এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে গেশে তীব্র তা নিজেও জানেনা।।।
। ফযরের নামাজে আমি তীব্রকে ডাকতে এসে দেখলাম তীব্র আধশোয়া হয়ে ঘুমিয়ে আছে।। তীব্র আজ এক ডাকেই উঠে পড়েছে ঘুম থেকে।। আমি ওকে ডেকে দিয়ে আমার রুমে চলে আসলাম।। আর তীব্র ওযু করে মসজিদে চলে গেলো ।।।। তীব্র নামাজ পড়ে আসতে আসতে প্রায় সাড়ে ৭ টা বেজে গেলো।।।।তীব্র এসেই আমার রুমে ঢুকল।।। আমি তখন বিছানায় বসে ছিলাম।।
তীব্র রুমে এসেই একটা লাগেজ বের করে আমার সব জিনিস লাগেজের ভিতর ভোরতে লাগল।।।ওর এমন কাজে আমি অবাক হলাম।। আমি তীব্র কে জিজ্ঞেস করলাম ঃ কি করছেন এগুলো।।। আমরা কোথাও যাব?
তীব্র বললঃ হুম আমাদের বাসায় যাব।। তোমাকে কালকে রাতে বললাম না? এই নাও এই বোরখা পরে রেডি হয়ে আস। আমরা এখন্ই বের হব। যাও ফাস্ট।।।
আমি ওর কথার কিছুই বুঝলাম না। আমি দারিয়েই আছি।। তীব্র আমার দারিয়ে থাকা দেখে বলল ঃ আরে তারাতারি কর, আমাদের হাতে বেশি সময় নেই।। আমি এগুলো গারিতে রেখে আসছি তুমি তারাতারি ১ মিনিটে বোরখা পরে বের হও।।।। আমি নিচে আছি।।। খবর দার কোন রকম চালাকি করবানা।।।।
তীব্র নিচে এসে গারিতে সব জিনিস উঠিয়ে তরির জন্য ওয়েট করছে এমন সময় ওর ঘারে কেও হাত রাখল।।তীব্র পেছন ফিরে বল্লঃ
তীব্র ঃ আরে চৌধুরী আংকেল আপনি এখানে? কি ব্যাপার?
মি,চৌধুরী ঃ সময় নেই আরহাম,, তোমাদের এখনি বের হতে হবে।। ওরা তোমাদের পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।।। তরী কোথায়?।।
তীব্র ঃ মানে কি? ওরা আমাদের লোকেশন জানল কি করে,, তারমানে আমাদের কম্পানি তে ওদের লোক আছে যারা আমাদের ডিটেইলস ওদের দিচ্ছে।।।
ঠিন এমন সময় আমি রেডি হয়ে নিচে আসলাম।।। আমি তীব্র কে জিজ্ঞেস করলাম্ঃ কি হয়েছে? এত তারাতারি কিসের?।।।।
তখন মি,চৌধুরী বল্লেনঃ কিছু না তরী।। এমনি এখানে তুমি ঠিক মত ছাদে যেতে পারছ না।তোমার পর্দার প্রব্লাম হচ্ছে এইজন্য তোমাকে আরহাম নিজের বাসায় নিয়ে যাচ্ছে।।।।
আমি অনার কথা গুলো মনযোগ দিয়ে শুনলাম তারপর তীব্রর দিকে তাকিয়ে বল্লামঃ ইনি কে? আমি ঠিক চিনতে পারলাম না।।।
তীব্র বললঃ ও তোমাদের তো পরিচয় করানো হয়নি।। ইনি হচ্ছেন রাব্বি চৌধুরী,, আমার আব্বুর পারসোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ছিলেন ইনি।।। আব্বু আম্মু মারা যাওয়ার পর চৌধুরী আংকেল আমাদের বিজনেস টা সামলেছেন উনি না থাকলে আমাদের সব কিছু শেষ হয়ে যেত।।।।
মি,চৌধুরী ঃ হুম ইন্ট্রো দেওয়া শেষ। এবার তারাতাড়ি গারিতে উঠ।।তারাতারি বের হতে হবে এখান থেকে তোমাদের।।।।
তীব্র আমাকে গারিতে উঠতে বলল।।। আমি গারিতে উঠলাম। তীব্র গারি স্টার্ট করল।।তীব্র একটা নির্জন রাস্তা দিয়ে গারি চালাচ্ছিল।।।। রাস্তা টা অনেক সুন্দর ।। রাস্তায় খুব একটা গারি নেই। পেছনে তাকিয়ে দেখলাম আমাদের পেছনে কম করে হলেও ৫ টা গারি।।
আমি তীব্রকে জিজ্ঞেস করলামঃ আচ্ছা আমদের গারির পেছনে এত গুলো গারি কেন? আর আমরা মেইন রোড দিয়ে না যেয়ে এই রোড দিয়ে কেন যাচ্ছি।।
তীব্র আমার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে গারির কাচ উঠিয়ে দিল আর বললঃ তুমি সিটবেল্ট বাধো নি কেন? সিটবেল্ট পর।।।।
আমিঃ সিটবেল্ট পরতে আমার ভাল লাগে না।।আমি পরবো না।।কাচ উঠালেন কেন?।। আপনি সামনে তাকিয়ে গারি চালান।। নাহলে আক্সিডেন্ট হয়ে যাবে।
তীব্র আমার কাছে এসে সিটবেল্ট বাধতে যাচ্ছে।। আর আমি নড়াচড়া করছি, যার ফলে ও ডিসট্রাকড হচ্চে।। হটাত একটা গারি এসে আমাদের গারির সাথে ইচ্ছা করে ধাক্কা মেরে দেই।। যার ফলে আমাদের গাড়ি যেয়ে রোডের পাশে থাকা একটা গাছের সাথে অনেক জোরে ধাক্কা খাই।। তীব্রর সীটবেল্ট পড়া ছিল বলে তেমন কোন ক্ষতি হইনা।ও গারির স্টেরিং এর উপর মাথা পরে অজ্ঞান হয়ে যায়।।আমাদের গারি গাছের সাথে এত জোরে বারি খেয়ে ছে যে গারির সাম্নের অংশ ভেংগে দুমড়ে মুচড়ে গেছে আর তার ভেতর আমার পা আটকে গেছে। আমি গারির জানালার কাচের সাথে বারি খেয়েমাথায় ভিশন আঘাত পায়।।। জানালার কাচ ভেংগে আমার মাথা কেটে যায়।।আমার বাম হাতের ভিতর তিনটা কাচের টুকরো ঢুকে যায়।।।আমি তিব্রর দিকে তাকিয়ে দেখি ও অজ্ঞান হয়ে গেছে।আমি তীব্রকে ডাকছি বাট ও শুনছেনা। বাইরে থেকে অনেক গোলাগুলির আওয়াজ আসছে।।।আমি দেখলাম চৌধুরি আংকেল এসে তীব্রকে ডাকছে। কিন্তু ও তাও উঠছেনা।। তারপর আর কিছু মনে নেই।।।
আমার যখন চোখ খুলে তখন আমি নিজেকে হসপিটালের বেডে পায়।।বাম হাত নারাতে পারছিলাম না।। আমার স্যালাইন চলছিল।।। তীব্র আমার পাশে বসে ছিল।।। ওর মাথায় ব্যান্ডেজ করা ।। আমার চোখ খোলা দেখে,,তীব্র কান্না করতে করতে আমাকে জরিয়ে ধরে বললঃ তুমি জানো আমি কত ভয় পেয়েছিলাম।। আজ ৩ দিন পর তোমার জ্ঞান আসছে।। ডক্টর রা বলছিল,,তুমি মাথায় আঘাত পেয়েছ অনেক,,৯৬ ঘন্টার মধ্যে তোমার জ্ঞান না আসলে তুমি কোমায় চলে যেতে পার।।।।।তরী i am sorry ... আমার জন্য আজ তোমার এই অবস্থা ।।।।।
আমি তীব্রর চোখের পানি মুছে দিয়ে বল্লামঃ আজকে সত্যি করে একটা কথা বলেবেন প্লিজ?
তীব্র বললঃ হ্যাঁ বলব।।।বল
আমিঃ এক্সিডেন্টের পর আমি গোলাগুলি আওয়াজ শুনেছি তার মানে এটা প্রিপ্লান এক্সিডেন্ট ছিল।। আমার জানা মতে আমার বা আমার ফ্যামিলির কোন শত্রু নেই যারা আমাকে মারতে চাইবে।।। তার মানে এরা আপ্নার শত্রু ছিল।এবং আপনাকে মারতে চেয়েছিল।।।।আর আপনি এটা জানতেন যে,,আমার উপর এট্যাক হতে পারে এইজন্য আপনি আমাকে সেফ করতে চাইছিলেন।।এটা নিয়েই আপনি কালকে এত টেনশনে ছিলেন।।।তো এখন আমাকে বলুন, আসলে ঘটনা কি? কারা এরা,, আপনার সাথে এদের কি শত্রুতা?৷
তীব্র আমার প্রশ্নে চমকে উঠে বল্লঃ আরে কি বলছ এসব।।এমন কিছুনা।।।।।আর আমার শত্রু কে হবে? আমাকে দেখে কি তোমার এমন ছেলে মনে হই।।।
আমিঃ তাই এমন কিছুনা? তাহলে আমাদের গারির পেছনে এত গারি কেনো ছিল ? কেনো চৌধুরী আংকেল হটাত করে আমাদের আপনার বাসায় নিয়ে যেতে চাইলো? কেন হস্পিটালের বাইরে গার্ডদের লাইন লাগিয়ে দিয়েছেন আপনি? হ্যা? কেন?।। জানেন আমি অজ্ঞান হওয়ার আগে গারিতে যখন আপনাকে আংকেল ডাকছিল আপনি উঠছিলেন না দেখে আমি কত ভয় পেয়েছিলাম? আমার যা হয় হোক ব্যাপার না,,,কিন্তু আপনার কিছু হয়ে গেলে কি হত হ্যাঁ? আমি কান্না করতে শুরু করেছি।।।
তখন ডক্টর সেহনাজ ভেতরে প্রবেশ করলেন।আমাকে কান্না করতে দেখে বললেনঃ আরে তরী তোমার সেন্স ফিরে এসেছে,,,,আরহাম তোমাকে নিয়ে অনেক টেনশনে ছিল।।।তুমি কান্না করছ কেন?।।।। আরহাম প্লিজ এখন ওকে রেস্ট করতে দাও।।।
তীব্র তরিঘরি করে বল্লঃ ডক্টর,, তরীর রিকোভার করতে কতদিন লাগতে পারে,,ওর পায়ে, হাতে,বা মাথায় কোন প্রব্লেম হবে না তো?
ডক্টর ঃ তরীর আঘাত গুলো অনেক গভীর ভাবে হয়েছে।। ওর রিকোভার করতে নাহলেও প্রায় ২ মাসের বেশি লাগবে।।।ওর এক্সট্রা কেয়ার করতে হবে।
তীব্র ঃ হুম ওকে বাসায় শিফট করতে চাচ্ছি আমি।।পসিবল হবে?
ডক্টর ঃ হুমম এখন ওইটাই বেটার হবে।।। তুমি একটু আমার সাথে আলাদা ভাবে দেখা কর এখনি।।।
ডক্টর চলে গেলেন।।
তীব্র বলল তুমি রেস্ট নাও আমি আসছি।।।
আমিঃ আমার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তারপর যান।।।।
তীব্র ঃ আমি তোমাকে সব বলছি একটু ওয়েট কর।।।।তীব্র কেবিন থেকে বের হয়ে গেলো।।
আমি আমার পা নারাতে পারছিলাম না।।। অনেক ভারি মনে হচ্ছিলো। তাকিয়ে দেখি দুই পায়েই প্লাস্টার করা।।।
তীব্র ডক্টরের চেম্বারে গেলো।।।তিব্র ঃ কি ব্যাপার ডক্টর,, ইমারজেন্সি কিছু হয়েছে নাকি?
ডক্টর ঃ হুম আরহাম তুমি জানো তরীর অবস্থা কি পরিমানে ক্রিটিকাল।। ওর পা তো গারি থেকে কোন ভাবে বের করাই যাচ্ছিলোনা।।তরীর দুই পা ই ভেংগে গেছে।। ওর এখন ফুল বেডরেস্টে থাকতে হবে এক্সট্রা কেয়ার করতে হবে।।।। ব্যাপারটা তরির জন্য অনেক ভয়ংকর প্রভাব ফেলতে পারে।। ওর হাতে কাছের টুকরো খুব বেশি গভীরে না গেলেও ক্ষত রিকোভার হতে টাইম লাগবে।।।
তীব্র ঃ ডক্টর ওর মাথায় আঘাত লাগছে অনেক।।। এতে ওর কোন ক্ষতি হবে না তো?
ডক্টর ঃ সেটা আমি বলতে পারছিনা।।এক্সিডেন্টটা ওর মনের উপর প্রভাব ফেলেছে অনেক।।। ওর ভিতর এখন একটা ভয় সব সময়ই কাজ করবে।। তোমার সাপোর্ট এখন ওর খুব দরকার।। আর যদি পার,,তাহলে,, ওকে জানিয়ে দাও মুলত এই এক্সিডেন্ট টা কেন হয়েছে,, আর এটা যে এক্সিডেন্ট না প্রিপ্লান মার্ডার এটাও বলে দাও,তরী বুদ্ধিমতি মেয়ে ও তোমাকে হেল্প করতে পারবে এবং নিজের ব্যাপারে সচেতন হবে।।। বিষয় টা ভেবে দেখ।।তোমার ওর প্রতি একটু অবহেলা,তোমাদের শান্তির জীবন ধ্বংস করে দিতে পারে।।।
তীব্র ডক্টরের কথা গুলো খুব মন দিয়ে শুনলো তারপর বল্লঃ আপনি ঠিক বলেছেন, আমি ভেবে দেখবো বিষয় টা।।। তীব্র বাইরে বেরিয়ে সরাসরি মি,চৌধুরীর সাথে দেখা করলো।।।
মি,চৌধুরী ঃ আরহাম,, তরীর কি অবস্থা এখন? শুনলাম ওর নাকি জ্ঞান ফিরে আসছে? এখন কেমন ফিল করছে ও?
তীব্র ঃ জানিনা।।।তবে তরী বুঝে গেছে সব,,, ডক্টর সেহনাজ বলল যে এই এক্সিডেন্ট টা ওর উপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।।।। আমি এখন কি করব আংকেল?আমার জন্য সব হয়েছে।।।(কান্না করতে করতে)
মি,চৌধুরী অনেক অবাক হলেন কারন আরহাম লাস্ট কান্না করেছে যেদিন ওর বাবা মা মারা যায় এরপর থেকে আর কোনদিনও সে তীব্রকে এতটা ভেংগে পরতে দেখেনি।।
মি,চৌধুরী ঃ আরহাম,, এত ভেংগে পরোনা।। তরীর সামনে তোমাকে শক্ত থাকতে হবে,ওর এখন মানষিক অবস্থা খারাপ।। তুমি যদি এত ভেংগে পর তাহলে তরী নিজেকে সামলাতে পারবে না।। , আর কি বললে তরী সব বুঝে ফেলেছে মানে কি? ও কি কিছু আচ করতে পেরেছে।।।
তীব্র চোখ মুছে বল্লঃ হুম তরীর জ্ঞান ফেরার পরই ও আমার দিকে প্রশ্ন ছুরে দিয়েছে।।তারপর তীব্র রাব্বি চৌধুরী কে সব খুলে বলল তরী কি কি বলেছে।।।
মি,চৌধুরিঃ ওহ শিট।। শোন আরহাম এখন তোমার উচিত তরীকে সব জানায় দেওয়া তাহলে তরী নিজের খেয়াল রাখতে পারবে।।ওর থেকে আর কিছু লুকিয়ে রাখার দরকার নাই।।।
তীব্র ঃ আমিও তাই ভাবছি।। ও একটু সুস্থ হোক। ওকে গ্রিন ভ্যালিতে নিয়ে যায় তারপর ওকে বলব।।
হটাৎ একজন নার্স হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে বললেন।।আরহাম স্যার তারাতারি আসুন ম্যামের খারাপ অবস্থা উনি পাগলামি করছেন।।।।।।
তীব্র আর মি,চৌধুরী তারাতারি আমার কেবিনের সামনে আসলেন।।তীব্র ভেতরে আসল।।তারপর,,,,,,,,
চলবে?
,,প্রতিদিন আপনাদের কথা মত গল্প দেই।। আর আপনারা কি করেন? রেস্পন্স করেন না।।।আপনারা গল্পে র আগের মত রেস্পন্স করছেন না কেনো?।।। গল্প কি আপনাদের ভালো লাগছেনা?।।। আপ্নারা কমেন্ট এত্ত কম করে করছেন কেনো?।। আবার বলছেন ও না কেমন লাগছে?।।।আর কিছু বলব না আপনাদের।।আপ্নারা

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url