ফুল বাগানে ফুটলোরে ফুল পাখি ডাকছে ডালেরে | Ful Bagane Futulore Ful Pakhi...
ফুল বাগানে ফুটলোরে ফুল পাখি ডাকছে ডালেরে Ful Bagane Futulore Ful Pakhi Dakce Dalere
#নীল_ক্যাফের_স্মৃতি
#পর্ব_১৩
#লেখনিতে_সাবরিনা_সিদ্দিকা_তাবাচ্ছুম
অর্পা আর আহরিনের তিনটা পরীক্ষার মাথায় অর্পা খেয়াল করতে লাগলো আহানের মধ্যে পরিবর্তন এসেছে। সে আগের মতো নেই কেমন একটা যেন পরিবর্তন ঘটেছে। আগে পরীক্ষার আগের দিন রাতে কিছু জ্ঞান দিয়ে যেতো। যা কেয়ারই বলা চলে! তার খাওয়া দাওয়া নিয়ে সিরিয়াস ছিলো আহান এখন এসবের খোঁজ খবর নেয় না। রাত করে বাড়ি ফিরে, কিছু জিজ্ঞাসা করলে উত্তর দেয় না। কেমন যেন মনমরা বলে মনে হয় সবসময়! এখন আহান অর্পার রুমে তো দূরের কথা সামনেই আসে না। সর্বদা দূরত্ব বজায় রেখে চলে! অর্পার এটা নিয়ে খুব টেনশন হচ্ছে। অজানা এক ভয়ে সে কেঁপে কেঁপে উঠছে...!
এখন সবসময় আহানের এই ব্যবহার অর্পা সহ্য করতে পারছে না। সে আহরিনকে জানালো সব। আহরিন ও চিন্তিত। নয়না বেগমকেও জানানো হলো ব্যাপার টা।
কিন্তু তিনিও বুঝতে পারছেন না ব্যাপারটা।
-- অর্পা তোমার পড়া কমপ্লিট?(আহরিন)
-- নিশ্চুপ
আহরিন অর্পার কোনো শব্দ না পেয়ে পড়তে পড়তে কথাগুলো বলছিল কিন্তু অর্পার কোনো উত্তর না পেয়ে মাথা তুলে দেখল অর্পা জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। আহরিন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবারও ডাকল,
-- অর্পা!
-- হ..হ্যাঁ বলো
-- কতক্ষণ ধরে ডাকছি খেয়াল আছে তোমার??
-- ওহ সরি।
-- তুমি এখন ও এসব নিয়ে চিন্তা করছো?
অর্পা নিশ্চুপভাবে বসে আছে।
-- উফফ! এতো চিন্তা করো না বলছি তো সব ঠিক হয়ে যাবে। ভাইয়া হয়তো কোনো সমস্যার মধ্যে আছে। কাল আম্মুকে জিজ্ঞাসা করতে বলব।
-- নাহ আহরিন মনে হচ্ছে না সব ঠিক হবে।
-- আহ! এতো চিন্তা করো না তো। কালকে পরীক্ষা তুমি এখন এসব নিয়ে এতো চিন্তা করলে পরীক্ষা খারাপ করবে তো! তোমার পড়া হয়েছে?
-- হুম(বই বন্ধ করতে করতে)
-- আচ্ছা আমার একটু বাকি আছে পড়ে শেষ করছি।
-- ওকে
অর্পা উঠে নিচে চলে এলো। নয়না বেগম তখন কিচেনে কাজ করছিলেন। অর্পাকে দেখে বলল,
-- কিরে পড়া শেষ?
-- হ্যাঁ মামনি
-- বাহ ভালো। তা আহরিন কোথায়? ওকে দেখছি না যে?
-- মামনি ওর একটু পড়া বাকি আছে।
-- হুম সারাজীবন ধরে না পড়লে তো এমনই হয়।
অর্পা হাসতে হাসতে বলল,
-- আরে না মামনি, ও তো রিভাইস দিচ্ছে।
-- হুম হুম বুঝি তো সব।
-- আচ্ছা আচ্ছা(হেসে) কিছু খেতে দাও মামনি খুব খিদে পেয়েছে
-- সারাদিন কিছু খেয়েছিস? সকাল থেকে আমিই চিল্লিয়ে যাচ্ছি কিন্তু তুই তো খাচ্ছিস না।(খাবার বাড়তে বাড়তে)
অর্পা টেবিলে বসে বলল,
-- আহরিনকে ডেকে আনি দাঁড়াও।
-- না ও খেয়েছে! তুই খা এই মেয়ে সারাদিন পড়ে নি ওকে ডাকার দরকার নেই।
-- আচ্ছা।
অর্পা একটু চুপ থেকে বলল,
-- মামনি...
-- হুম(কাজ করতে করতে)
-- আ..আহান খেয়েছে?
নয়না বেগম কাজ থামিয়ে মুখ মলিন করে বলল;
-- ছেলেটা এখন কারো কথা শোনে না। বাড়িতেই তো থাকে না। খেয়েছে কি খাইনি। কী খেয়েছে কিছুই জানি না, জানতেই পারি না জিজ্ঞাসা করলে রাগারাগি করে। কেমন একটা বদমেজাজি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এমন কে হলো বল তো!
অর্পা শুধু দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। তার কাছে এসবের উত্তর নেই সে নিজেও এর উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছে!
-- যাই আমার অনেক কাজ আছে তুই খেয়ে নে। আর তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়বি।
নয়না বেগম চলে গিয়েছে কিচেনে। অর্পা খাচ্ছে আর ভাবছে হচ্ছে টা কী? আহানের হঠাৎ এভাবে পরিবর্তন সবাইকে ভাবাচ্ছে। অর্পা নয়না বেগমের দিকে তাকিয়ে দেখলো মানুষটা দু এক দিনে শুকিয়ে গিয়েছে। কেমন একটা মন মরা থাকে সবসময়। এই ছেলের জন্য সবার কষ্ট বেড়েছে। আমাকে কিছু একটা করতেই হবে আহানের সাথে কথা বলতেই হবে। অর্পা তাড়াতাড়ি খেয়ে উঠে গেল।
রুমে এসে দেখল, আহরিন মোবাইল দেখছে।
-- আহু পড়া শেষ??
-- হু।
-- আমি তো খেয়ে নিয়েছি তুমি খেয়ে এসো।
-- না আমি খেয়েছি কিছুক্ষণ আগে এখন আর খেতে ইচ্ছে হচ্ছে না। তুমি শুয়ে পড়ো।
-- কিন্তু না খেলে শরীর খারাপ করবে। একটু খেয়ে আসো যাও।
-- আচ্ছা অল্প একটু খেয়ে আসি তুমি থাকো।
-- হুম
আহরিন চলে গেল অর্পা ভাবতে লাগল কী করা যায়! যা করার আজকেই করবে সে।
আহানের সাথে সহজে কথা বলা যাবে না অনেক কাঠ খড় পোড়াতে হবে কারণ আহান এখন পুরোপুরি তাকে ইগনোর করছে। আর কথা বলতে গেলে তো উঠে ছলে যাচ্ছে। সামনেই আসছে না। যখন আমি ঘুমিয়ে যায় তখন বাড়ি ফিরে। শুধু জেগে থাকে মামনি(নয়না বেগম)। কোনো একটা কারণ তো আছেই। সে নিশ্চয়ই খবর রাখে নাহলে সবসময় আমি ঘুমোলেই কেন আসে। সেদিন রাত বারোটা কেউ জেগে নেই শুধু মামনি ছাড়া। তখন সে বাড়ি ফিরলো। আমি একদিন দুটো পর্যন্ত জেগে ছিলাম সে বাড়ি ফিরে নি। মামনির জোড়াজোড়িতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম ঠিক তার পর সে ফিরেছে। এটা আমার মনে খটকা লাগার কারণে আমি একদিন রাত ন'টায় ঘুমিয়ে পড়েছি তবে আহরিন জেগে ছিল। সেদিন আহান সাড়ে ন'টায় ফিরেছে। এরপর থেকে মনে হচ্ছে ঘটনা আমার সাথে ঘটাচ্ছে। আজকে কিছু একটা করতেই হবে।
অর্পা ঘুমিয়ে গেল। আহরিন এসে শুয়ে পড়ল।
ঘড়ির কাঁটায় রাত বারোটা সাত মিনিট।
নয়না বেগম সোফায় বসে আছেন। কারণ তিনি জানেন এখন আহান আসবে তাই দেরি করলেও কোনো চিন্তা করেন না কিন্তু এই ছেলেটা হঠাৎ এমন হয়ে গেল কেন? শান্তশিষ্ট ছেলেটা এখন হুটহাট রেগে যায়। ছোট ছেলেটা যে কিনা মায়ের কথা ছাড়া এক পা নড়তো না সে কিনা এখন কথা শোনে না। এটাই তার হতাশা।
বাড়ির সদর দরজা খোলার আওয়াজ হলো। নয়না বেগম জানেন কে এসেছে। হুম আহান! আহান ও জানে যে নয়না বেগম বসে আছে তার জন্য দরজা খোলা রেখে। সে ভেতরে ঢুকে মাথা নিচু করে নিঃশ্বাস নিয়ে বলল,
-- আম্মু তোমায় না বললাম তুমি ঘুমিয়ে পড়বে জেগে থাকো কেন এতো রাত অব্দি?
-- তুই এমন হয়ে গিয়েছিস কেন বল তো!
বলেই নয়না বেগম ডুকরে কেঁদে উঠলো।
-- আহ আম্মু। আমি ঠিকই আছি। তুমি যাও তো ঘুমাতে ! আর জেগে থাকবে না।
বলে যেই না হেঁটে গিয়ে সিঁড়ি কাছে যাবে রুমের উদ্দেশ্যে তখনই তার সামনে এসে দাঁড়ালো অর্পা। আহান থতমত হয়ে গেলো। সে ওঠার কোনো রাস্তা খুঁজে পাচ্ছে না। অর্পা পুরো সিঁড়ি ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে।
-- কী হলো ভয় পেয়ে গেলে আমাকে দেখে? আহা! আহান তো এতো ভীতু না যে আমার মতো একটা মেয়েকে দেখে ভয় পাবে!
-- কী হয়েছে? সমস্যা কী? সামনে থেকে সরো।
-- আমার কিছু হয় নি। তোমার কী হয়েছে সেটা বলো?
-- আমার আবার কী হবে? সরো সামনে থেকে।
-- সরবো না। তুমি আমাকে এভয়েড করছো কেন??
-- আমি কাউকে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য না!
-- আমাকে দিতে তুমি বাধ্য।
-- কেন??
-- আমি তোমার উডবি সো এটা আমার অধিকার যে তুমি কখন কোথায় যাচ্ছো কী করছো না করছো সব!
আহান নিশ্চুপ হয়ে আছে।
-- কী হলো বলো! আমি ঘুমিয়েছি মনে করে এতক্ষণে এসেছো। তুমি কী চাচ্ছো বলো তো! আমি ঘুমোলে বাড়ি ফিরছো। সবাইকে কষ্টে রেখে কী করতে চাও তুমি?? মামনি দিকে তাকিয়ে দেখো মানুষটার কী হাল হয়েছে এই দুদিনে। তুমি তো দিব্যি হেসে খেলে ঘুরে বেড়াচ্ছো। মামনি কিছু জিজ্ঞাসা করলেই রাগারাগি করছো। মা নামক জিনিসটা আছে বলেই বুঝতে পারছো না। আমি তো এখন ও জানি না আমার মা কোথায়? তাই তো আমি উপলব্ধি করতে পারছি। তুমি তা বুঝবে না।
আহানের মেজাজ খারাপ হলো।
-- সরো সামনে থেকে নাহলে খারাপ কিছু হয়ে যাবে।
-- কী করবি তুই?? ওকে মারবি?(নয়না বেগম)
-- আম্মু ওকে সরতে বলো।
-- তুই আগে ওর উত্তর দে!
অর্পা আর নয়না বেগমের জোড়াজোড়িতে হুঙ্কার দিয়ে বলে উঠল আহান,
-- আমার পক্ষে এই বিয়ে করা সম্ভব নয়!
এই কথা শুনে আমার পায়ের নিচের মাটি সরে গেলো। এতক্ষণে চিৎকার চেচাঁমেচি শুনে আহরিন ও নিচে চলে এসেছে। সে ও হতবাক। কী বলছে ভাইয়া!
আহান রাগে অর্পাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে উপরে ছলে গেল। অর্পা মেঝেতে ছিটকে পড়লো, কিন্তু এই ব্যথা যেন তার গায়ে লাগে না!
#চলবে...!
(১৩০১ শব্দের)
(এবার কী ঘটবে? বিচ্ছেদের ঘটনা নাকি কোনো রহস্য ফাঁস?)