তোমার দেহ মাটি | Tomar Deho Mati | Holy Messenger
#অন্তরালে_ছোয়া (৮ম এবং শেষ পর্ব)
.
নাফিয়ানের ফাসি হওয়ার ৪দিন পর!!!
হঠাৎ ইরাদের বাড়িতে কলিং বেল এ নক!
ইরার বাবা কিছুক্ষণ আগে ব্যায়াম করে এসে সোফায় বসেছেন আর ইরার মা রান্নাঘরে ছিল!
ইরাদের বাড়ির কাজের মেয়েটা গিয়ে দরজা খুলে,
দরজা খুলেই কাজের মেয়েটা চিতকার আর বলতে থাকলো " খালাম্মা খালাম্মা গো ভূত,আমারে বাচান" (বলতে বলতে মেয়েটা ভিতরে চলে গেল)
ইরার বাবা দরজার সামনে গিয়ে অবাক "ইরা মা তুই? তুই কই ছিলি এতদিন"
ইরার মা এসে ইরাকে দেখে কান্নাকাটি শুরু করে!
,
ইরাকে ভিতরে এনে বসায় ইরার মা! ইরার শরীরে বিভিন্ন দাগ,কেউ খুব মেরেছে ইরাকে!
,
ইরার মা; (কেদে) ইরা তুই কই ছিলি মা? আমরা তোকে কত্ত খুজেছি!
ইরা; (নিচু কন্ঠে) মা আমাকে একটু পানি দিবা?
ইরার বাবা; আমি আনতেসি!
(ইরাকে পানি এনে দেয়,ইরা পানি খায়)
,
ইরা; আচ্ছা মা আমি যাই,নাফিয়ান হয়তো আমার অপেক্ষায় বসে আছে!
ইরার মা; তুই বলবি তো, তুই কই ছিলি? এদিকে কত ঘটনা ঘটে গেছে তুই জানিস না!
ইরা; আমি পরে সব বলবো! আমাকে থানায় ও যাইতে হবে! আগে আমি একটু নাফিয়ানের সাথে দেখা করে আসি!
,
ইরার মা; নাফিয়ানকে তুই খুজে পাবি না রে মা (কেদে কেদে)
ইরা; কেন মা?
ইরার বাবা; নাফিয়ান আর নেই!
ইরা; (ইমশনাল সুরে) নেই মানে?
ইরার বাবা; নাফিয়ানের ফাসি হয়ে গেছে!
(ইরা দাড়ানো থেকে বসে পড়ে)
(ইরা স্তব্ধ হয়ে গেছে)
ইরার মা; তুই নিখোঁজ, তারপর পুলিশ তোর একটা লাশ পেল,বিভিন্ন টেস্ট করে দেখলো ওইটা তোর লাশ! তারপর পুলিশ বিভিন্ন টেস্ট করে দেখলো নাফিয়ানই তোকে খুন করেছে! তারপর আদালত নাফিয়ানকে ফাসির রায় দিয়েছে!
,
ইরা; (চুপ)
ইরার মা; তুই কই ছিলি?
ইরা; (পাথর হয়ে গেছে,কোন কথা বলছে না)
,
ইরা এক ফোটা ও কাদছে না! ইরা পাথর হয়ে গেছে!
ইরা কারো সাথে কোন কথা বলছে না! নিজের রুমে নিজে একা একা বসে থাকে! নাফিয়ানের মারা যাওয়ার খবর শোনার পর থেকে কেউ ইরার একটা কথা এবং এক ফোটা কান্নার আওয়াজ পায় নি!
,
২দিন কেটে যায়!
একদিন হঠাৎ,,
ইরা; মা আমি তো বেচে আছি,তোমার সামনে বসে আছি! আমার খুনের জন্য নাফিয়ানের ফাসি কিভাবে হয়?
ইরার মা; মা তুই একটু কান্না কর! তোর মনটা হালকা হবে!
ইরা; না মা আমি কান্না করবো না,তোমরা আমার সাথে মজা করতেছ! নাফিয়ান আমাকে ছেড়ে কোথাও যেতেই পারে না! ও আসবে আমাকে নিতে! (বলেই ইরা নিজের রুমে চলে যায়)
,
ইরার খাওয়া দাওয়ার কোন টাইম টেবিল ছিল না! ইরা সারাক্ষণ চুপ করে বসে থাকতো!
,
একদিন রাত তখন ২টা!
ইরা চলে যায় সেই পুলিশ অফিসারের বাসায়,যিনি নাফিয়ানের কেসটা ইনভেস্টিগেশন করেছে!
,
ইরা; স্যার আমাকে চিনতে পেরেছেন?
অফিসার; হ্যা তুমি ইরা!
ইরা; তাহলে ইরা খুনের মামলায় নাফিয়ানের ফাসি কিভাবে হয়?
অফিসার; এটা আমাদের একটা মিস্টেক!
ইরা; আপনাদের একটা মিস্টেকে যে আমার লাইফটা তছনছ হয়ে গেল?
অফিসার; আসলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী!
ইরা; আমি বেচে আছি,অথচ আমার বডি পাওয়া গেছে,নাফিয়ানের হাতের ছাপ পাওয়া গেছে,সাক্ষী পাওয়া গেছে! স্যার আমাকে সত্যিটা বলুন! অন্যথায় আমি এমন কিছু করবো আপনার চাকুরী, সম্মান সব যাবে!
অফিসার; (কেদে দেয়) ইরা আমাকে ক্ষমা করে দাও,আসলে সব প্লানিং অন্য একজনের! আমি শুধু তার কথামত কাজ করেছি! টাকা পেয়েছি!
ইরা; (ছলছল চোখে) কে সে?
অফিসার; তোমার বাবা,রাজিব চৌধুরী!
ইরা; সত্যিটা বলুন!
অফিসার; তোমার বাবাই প্রথমে তোমাদের মেনে নেয়ার মিথ্যা নাটক করেছে যাতে তার ওপর থেকে সব সন্দেহ সরে যায়! তারপর তোমাকে কিডন্যাপ করে একটা রুমে আটকে রাখে! তারপর নাফিয়ানকে মিথ্যা চিরকুট দেয়! সে গল্পটা এমন ভাবে সাজায় যাতে কেউ কাউকে সন্দেহ না করতে পারে! তোমার বাবা সরাসরি নাফিয়ানকে ফাসায় নি! তাহলে নাফিয়ান তাকে সন্দেহ করবে তাই! তারপর সে একটা অন্য মেয়ের লাশ পুড়িয়ে জংগল এ ফেলে দেয়,এদিকে তোমার থেকে তোমার ড্রেস নেয় এবং লাশটিকে পড়িয়ে দেয়! ২জন লোককে টাকা দিয়ে ভাড়া করে নাফিয়ানকে জংগলে দেখেছে বলার জন্য! ফরেন্সিককে টাকা দেয় যাতে ওটাকে তোমার (ইরার) লাশ বলে এবং নাফিয়ানের হাতের ছাপ পাওয়া গেছে বলে! ফরেন্সিক একটা ভুয়া রিপোর্ট দেয়! তখন আমরা নাফিয়ানকে এরেস্ট করতে যাই! নাফিয়ান ভয়ে পালিয়ে যায়! এতে আমাদের কাজটা সহজ হয়ে যায়! পরে আমরা নাফিয়ানকে এরেস্ট করি এবং আদালতে চালান করি! আদালত নাফিয়ানকে ফাসির রায় দেয়! আমি পুরো ব্যাপারটা জানতাম! কিন্তু তোমার বাবা আমার সিনিয়র! তাই তার কথা আমাকে শুনতে হয়েছে!
,
ইরা; আপনি এতক্ষণ যা যা বলেছেন,সব রেকর্ড হয়েছে! আশাকরি কাল থেকে আপনার আর অফিসে যেতে হবে না!
(ইরা চলে যায়)
,
(সারাদিন কেটে যায়)
,
রাত তখন ১০টা!
ইরা; মা তুমি আজকে আমার সাথে ঘুমাবা?
ইরার মা; হ্যা মা! অবশ্যই! তুই যা আমি আসছি!
,
(ইরার বাবা একা ঘুমায়,ইরার মা ইরার সাথে ঘুমায়)
,
রাত তখন ১টা!
,
(ইরা ইরার বাবাকে ডাকছে)
-বাবা বাবা!
ইরার বাবা ঘুম থেকে উঠে!
,
ইরার বাবা উঠে দেখে তার ৪ হাতপা বিছানার ৪কোনার সাথে বাধা!
,
ইরার বাবা; ইরা আমার হাত পা বেধেছে কে?
ইরা; তুমি কি শান্তিতে ঘুমাচ্ছ বাবা,আমার তো ঘুম আসে না বাবা (কেদে)
ইরার বাবা; কেন কি হয়েছে মা?
ইরা; আমাকে কিডন্যাপ করার পর,একটা লোক প্রতিদিন আমাকে এসে লাঠি দিয়ে মারতো,আমি সারাদিন শুধু ভাবতাম,এই মানুষটা আমাকে কেন প্রতিদিন রুটিন করে মারে! আমি তার কি ক্ষতি করেছি! উত্তরটা আজ পেয়েছি বাবা!
ইরার বাবা; কি উত্তর মা?
ইরা; আমি আর নাফিয়ান লোকটার ইগোতে আঘাত করেছিলাম! যার কারনে নাফিয়ানকে প্রান হারাতে হয়েছে আর আমি লোকটার মেয়ে হওয়াতে প্রানে মারে নি,,কিন্তু লাঠি দিয়ে মেরেছে আর প্রিয়জন হারানোর বেদনা দিয়ে তিলে তিলে মারছে!
ইরার বাবা; কি বলছিস মা?
,
ইরা; তুমি বলতা,আমি নাফিয়ানকে নিয়ে দূরে কোথাও চলে যেতাম! কেন ভালো ছেলেটাকে মেরে ফেললা?? (কেদে)
,
ইরার বাবা; সব জেনে ফেলেছিস!
,
ইরা; তুমি আমার বাবা,এটা ভাবতেও আমার লজ্জা করছে! শুধুমাত্র ইগোর জন্য তুমি নিজের মেয়ের সুন্দর জীবনটা তছনছ করতেও পিছপা হও নাই।
,
ইরার বাবা; নতুন করে লাইফ শুরু কর,আমি তোকে ক্ষমা করে দিয়েছি! ওই ছেলের কথা ভুলে যা!
,
ইরা; (হেসে) কাকে ভুলতে বলতেছ? নাফিয়ান আমার লাইফের সবচাইতে দামী জিনিস! যার জন্য আমি সব ছেড়ে দিয়েছিলাম! সেই দামী জিনিসটা তুমি আমার থেকে কেড়ে নিয়েছ বাবা! তুমি ভাবতে পারতেছ,এখন তোমার কি হবে বাবা?
,
ইরার বাবা; কি করবি তুই?(ভয়ে) পাগলামি করিস না! সামান্য একটা রাস্তার ছেলের জন্য তুই নিজের বাবার ক্ষতি করবি?
,
ইরা; (কেদে) ওই রাস্তার ছেলেটাই মন প্রান নিয়ে ভালোবেসেছিল বাবা আমাকে,তুমি শুধু তোমার ইগোকেই ভালোবেসেছ!
,
এটা বলেই ইরা চামচ দিয়ে তার বাবার পায়ের নখ গুলো উপরে ফেলতে থাকে,ইরার বাবা চিতকার করতে থাকে!
ইরা; চিতকার করে লাভ নেই,মাকে আমি অজ্ঞান করে এসেছি! সে সকালের আগে উঠবে না!
,
ইরা তার বাবার হাত এবং পায়ের ২০টা আংগুল এর নখ উপরে ফেলে,ইরার বাবা চিতকার করে কাদতে থাকে! ইরা তারপর তার বাবার সারা গায়ে কাটা চামচ দিয়ে আঘাত করতে থাকে!
,
ইরার বাবা; পানি!
(ইরা এক গ্লাস পানি এনে খায়িয়ে দেয় ইরার বাবাকে)
,
ইরা; পানির মধ্যে কি ছিল জানিস মিস্টার রাজিব চৌধুরী?
ইরার বাবা; কি?
ইরা; জীবন্ত কেচো আর ছোট ছোট সাপ!
ইরার বাবা; চিতকার করে কাদা শুরু করে!
,
ইরা; (কেদে) আমার নাফিয়ান ও ফাসির আগে এভাবেই কেদে কেদে মুক্তি চেয়েছিল! কিছুক্ষনের মধ্যে তুই এমনিতেই মরে যাবি!
(ইরা চলে যাচ্ছে)
(হঠাৎ পিছন ফিরে)
,
ইরা; তুই জানিস মিস্টার রাজিব চৌধুরী! তুই নাফিয়ানকে অপছন্দ করলেও,,নাফিয়ান তোকে খুব সম্মান করতো! ও আমাকে প্রতিদিন বুঝাতো, একদিন তুই সব মেনে নিবি! কিন্তু তুই তো ইগো নিয়েই বসে আছিস! এখন ইগো নিয়েই মর!
(ইরা চলে আসে)
,
সকাল হয়!
ইরার মা এসে দেখে ইরার বাবা মরে পড়ে আছে! ইরার মা পুলিশে খবর দেয়! ইরার বাবার লাশটির কি ভয়ানক অবস্থা! পেট ফুটা হয়ে আছে! সারা শরীরে কিছু যে কামড়িয়েছে তা বোঝাই যাচ্ছে! চোখ উপরে ফেলা! একদম ভয়ানক অবস্থা!
,
অন্যদিকে সকালেই পুলিশের কাছে খবর আসে "নাফিয়ানের কেস হ্যান্ডেল করা পুলিশ অফিসার এর লাশ পাওয়া গেছে তার বাড়ি থেকে,,নাফিয়ানের হাতের ছাপের রিপোর্ট দেয়া ফরেন্সিক লোকটার লাশ পাওয়া গেছে তার বাড়ি থেকে,২জন লোক মিথ্যা সাক্ষী ছিল তাদের ও লাশ পাওয়া গেছে তাদের বাড়ি থেকে"...
,,
ইরা নিখোঁজ!
,
সেদিনের পর ইরাকে আর কেউ কখনো দেখে নি!
,
পত্রিকাতে "অবাধ্য মেয়ের হাতে বাবা খুন" নামের একটা প্রতিবেদন বের হয়! সেখানে ইরার একটা ছবিও দেয়া হয়! এবং কেউ ইরাকে দেখলে কল দিতে বলা হয়!
,
একজন লোক পুলিশকে কল দেয় "স্যার আমার ১০ বছরের ছেলে বলতেসে,ও পত্রিকায় ছবি দেয়া মেয়েটিকে দেখেছে"
,
পুলিশ সেই বাচ্চাটির সাথে দেখা করতে যায়! তাদের বাসা কক্সবাজার!
,
পুলিশ; আব্বু তুমি কোথায় দেখেছ মেয়েটিকে?
বাচ্চাটি; আমি আমার বন্ধুদের সাথে ভোরে বিচে ফুটবল খেলছিলাম,,তখন এই আপুটাকে দেখেছি ঢেউয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে চিতকার করে একা একা কাদছিল!
,
(পুলিশ ইরার ছবি দিয়ে পুরো কক্সবাজার খোজা খুজি করে এবং অবশেষে ইরার রুম পেয়ে যায়)
,
ইরার রুমের দরজা খুলে,
পুলিশ দেখে,,
"ইরার লাশ ঝুলছে"!!
পাশে রাখা একটা চিরকুট!
চিরকুটে লিখা ছিল
" যদি ছেলে-মেয়েকে সত্যিই খুশি দেখতে চাও,তাহলে ভালোবাসাকে মেনে নাও"
"দুনিয়ার সব বাবা-মায়ের উদ্দেশ্যে ইরা"
,
,
সমাপ্ত!
,
লেখক; আলিফ খান (মেন্টাল)
.
গল্পটি কাল্পনিক এবং নিজের লিখা! ধন্যবাদ পুরো গল্প জুড়ে আমাকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য! আশাকরি সামনেও এভাবেই আপনাদের সাপোর্ট এবং ভালোবাসা পাবো!