গাড়ী বাড়ি সুন্দর নারী কোনদিন জানি আসবে গেরেফতারি | Gari Bari Sundor Nari...

#মায়াবতী
#পর্বঃ
মাজেদুল ওয়েটিং রুমে বসে আছেন তার মাথায় অনেক কিছু ঘুরছে তিনি খুব মনোযোগ সহকারে কিছু একটা ভাবছেন। তিনি মনোয়ারার জ্ঞান ফেরার অপেক্ষা করছেন।
এমন সময় রকিবুল এসে বললো আব্বা আপনি বাড়িত যান সেই কখন থিকা হাসপাতালে বইসা আছেন। কিছু খাইয়া আরাম করেন। আর মাসুদের মায়েরে (মনোয়ারার সাথে আসা প্রতিবেশী মহিলা) নিয়া যান উনি সেই কখন থিকা এখানে আছে সংসার ফালাইয়া। সেও বাড়িত যাইবার চাই তার ম্যালা কাজ পইড়া আছে। আজ রাত থাকার জন্য অন্য আরেকজনরে ঠিক করন লাগবো। মহিলাদের ব্যাপার কখন কি লাইগা বসে দরকারে। একজন মহিলা থাকা জরুরী। আর আমি তো আছিই। মায়ে একা দুইডা বাচ্চা সামলাইয়া পারবো না আপনি বাড়িত যান। রাত থাকার জন্য অন্য কাউরে পাঠাইয়া দিয়েন।
মাজেদুল রকিবুলকে বললেন, তুই মাসুদের মায়েরে নিয়া বাড়িত যা। খাইয়া দাইয়া রেস্ট নিয়া লগে কাউরে লইয়া সন্ধ্যার মধ্যে আইয়া পড়িস। তুই তো সারারাত থাকবি তাই গুছাইয়া গাছাইয়া আহিস। আমি অহন আছি। তুই কাউরে লইয়া আইলে একবারে যামু গা। সামনের দুকান(দোকান) থিকা কলা পাউরুটি কিন্না দিয়া যা তাতেই হইবো। বাড়িত যাইয়া একবারে ভাত খামুনে।
রকিবুল দেখলো তার বাবার কথায় যুক্তি আছে। সে বললো আচ্ছা ঠিক আছে আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাউরে সাথে নিয়া আইসা পড়ুম। আপনি খেয়াল রাইখেন। রকিবুল বাবার জন্য কলা পাউরুটি পানি কিনে দিয়ে প্রতিবেশী মহিলাকে নিয়ে বাড়িতে গেল।
মাজেদুলের মাথায় অন্য কিছু ঘুরছে। তিনি তার ছেলের বৌ এর জ্ঞান ফেরার অপেক্ষায় আছেন। তার মনের মধ্যে চলছে, মনোয়ারার লগে কিছুতেই ডাক্তার বেডির আগে কথা বলবার দেওন যাইবো না। উল্টাপাল্টা বুঝাইয়া তার মাথা খাইতে পারে। খামোখা বিপদে পড়া। মাজেদুল কোথাও যাচ্ছেন না সেইজন্য। একবার মনোয়ারার জ্ঞান ফিরুক তারে সতর্ক করবেন যেন সে বেফাঁস কিছু না বলে বসে, তারপর তিনি যাবেন। তিনি নার্সকে কখন জ্ঞান ফিরবে জিজ্ঞেস করে করে বিরক্ত করে দিয়েছেন ইতিমধ্যে।
মনোয়ারা নড়াচড়া করছে মাজেদুল তার মাথার কাছে বসে আছেন। তিনি একটু স্বস্তি বোধ করছেন কারণ রকিবুল বা অন্য কেউ আশেপাশে নেই। তাকে ভালো করে বুঝিয়ে দেওয়া যাবে। রকিবুল মহা পন্ডিত সে ডাক্তোর(ডাক্তার) বেডির সামনে বেফাঁস কিছু বলে বসতে পারে তাকে দিয়ে বিশ্বাস নাই।
মনোয়ারা ব্যাথায় কুঁকড়ে যেয়ে ঘোলা আধো আধো চোখে তাকালো। সে কিছু বুঝতে পারছে না কি হচ্ছে, সে কোথায় আছে! তার চেহারায় কষ্টের ছাপ স্পষ্ট।
মনোয়ারা অহন কেমুন বোধ করতেছো? হালকা ভাবে কথাটা তার কানে গেল। বোধ শক্তি এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি। আস্তে আস্তে শরীরে জানান দিচ্ছে ব্যাথার অনুভূতি গুলো। তার সারা শরীরে ব্যাথা। আজিজুল তাকে বেধড়ক মার দিয়েছে কাঠের লাঠি দিয়ে। কেটে কেটে গেছে অনেক জায়গায়। সাথে অপারেশনের ব্যাথা ও ফিরে আসছে ঔষধের রিএকশন কাটতে শুরু করেছে। মনোয়ারার মনে হচ্ছে এটা কি মৃত্যু যন্ত্রণা? সে কি মারা গিয়েছে?
মাজেদুল বলে চলেছেন, শুনতে পাও আমার কথা?
মনোয়ারা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। ব্রেন কাজ করতে শুরু করে দিয়েছে। তার স্মৃতি গুলো এক এক করে জোড়া লাগতে শুরু করেছে। মনোয়ারা শশুরের দিকে তাকিয়ে বললো, মায়া? পরী?
মাজেদুল বললেন, চিন্তা নিও না ওরা বাড়িত আছে ভালো আছে। বুঝতেই পারছো তুমার একটা অপারেশন হয়েছে। ডাক্তোর(ডাক্তার) আসার আগে তুমার লগে জরুরী কিছু কথা আছে মন দিয়া শোনো। কি বুঝতে পারছো আমার কথা?
মনোয়ারা হ্যা সূচক হালকা মাথা ঝাকালো।
মাজেদুল মুখ খানিকটা এগিয়ে মনোয়ারার কানের কাছে এনে বললো, তুমি কি চাও তুমার পরিবার কুনো বিপদে পড়ুক? তুমার স্বামীর অসম্মান হোক?
মনোয়ারা কিছু বুঝতে পারছে না তার শশুর কি বলার চেষ্টা করছে তারপরও সে মাথা না সূচক নাড়ালো।
শোনো বৌমা, এইখানে (ডাক্তোরে)ডাক্তার বা অন্য কেউ তুমারে জিগাইতে পারে তুমার শইলের এই দাগ গুলান কিসের। তুমি তো জানোই পুলার আমার একটু চান্দি গরম। রাগের মাথায় কইরা ফেলছে। টুকটাক গায়ে হাত তো হগোলেই তুলে এর জন্য কি পুলিশ ডাকা মানান সই হয়? কও তুমি?
মনোয়ারা তাকিয়ে আছে তার দুই চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। সে কিছু বলছে না।
মাজেদুল বললো শোনো বৌমা শিক্ষকের মার আর স্বামী শাসনের মার যেখান যেখান(যেখানে যেখানে) পড়ে সেখান সেখান(সেখানে সেখানে) দোযখের আগুনে পুড়ে না। মারহাবা! এডাও একটা ভাগ্যের বিষয় তাই না। মোদ্দা কথা তুমারে উল্টোপাল্টা বুঝাইয়া কেউ মাথা খাইবার চাইলে যেন পাত্তা দিবা না। পরিবারের মইধ্যে একটু আধটু মনমালিন্য হইয়াই থাকে তার জন্য পরিবারের মান ইজ্জত ধুলোই মিশাইতে হইবো নাকি? বুঝতে পারছো আমার কথা?
মনোয়ারা কিছু বললো না তার চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে চলেছে।
এমন সময় নার্স এসে বললো বাহ্ জ্ঞান ফিরে এসেছে। আমি ডাক্তার আপাকে ডেকে আনি বলে বেরিয়ে গেলো।
মাজেদুল সতর্ক হলো এবার একটু কড়া স্বরে বললো, শোনো বৌ। এসব কথা গেরামে বাতাসের আগে ছড়াই। তুমার(তোমার) হাসপাতালে আসার কথা তুমার ভাই বেরাদার(ব্রাদার) এর কানে পৌঁছাইনি তা নয় কিন্তু একজন ও তুমারে চোখের দেখা দেখবার আসেনি। খোজ নেওয়া তো দূরের কথা ভাবছে যদি কুনো খরচ খরচা করবার লাগে বা বাড়িত লইয়া সেবা করন লাগে। তুমার সাতে পাছে কেউ নাই আমরা ছাড়া। আমি পানির মত পয়সা ঢালছি তুমার পিছে। আর কেউ হইলে এত টেকা খরচা করত না। আমার বাড়ির মান ইজ্জতের উপ্রে যদি এতটুকু আচ আসে। দুই মাইয়া লইয়া তুমার পথে বসা ছাড়া উপায় নাই। আর একটা কথা তো তুমি জানো ও না এরা তুমারে বাজা বানাইয়া দিছে আর কুনোদিন তুমার বাচ্চা হইবো না এই অবস্থায় তুমি কি করবা না করবা ঠিক মত ভাইবা চিন্তা কইরো।
মনোয়ারা বড় বড় চোখে তাকিয়ে আছে এসব কি বলছে আব্বা। চোখ বেয়ে নেমে আসা পানির জন্য সব ঝাপসা লাগছে তার কাছে।
এমন সময় ডাক্তার ম্যাডাম আসলেন। তিনি দরজা থেকে দেখতে পেলেন মাজেদুলকে আঙুল ঝাকিয়ে শাসানোর ভঙ্গিতে কিছু একটা বলছেন। ডাক্তার সাহেবা কড়া গলায় বললেন, কি করছেন আপনি?
মাজেদুল ঝট করে উঠে দাড়ালেন, হাত কচলে বললেন ম্যাডাম আমি আমার বৌ মায়ের খোঁজ খবর নিতেছিলাম। খুব টেনশন হইতেছিলো।
ডাক্তার সাহেবা মনোয়ারার দিকে তাকিয়ে বললেন তা তো আমি দেখতেই পারছি আপনি তার কেমন খবর নিচ্ছিলেন। তিনি মনোয়ারাকে জিজ্ঞেস করলেন এখন কেমন বোধ করছেন? পালস্, বিপি মাপলেন। এরপর তিনি মাজেদুল কে বললেন, আপনি একটু বাহিরে যান।
মাজেদুল বললো ক্যান ম্যাডাম আমি থাকি। ডাক্তার সাহেবা কড়া ভাবে বললেন, মেয়েলি ব্যাপার আছে আপনি বাইরে অপেক্ষা করুন। পরে আসবেন।
মাজেদুল যাবার আগে মনোয়ারার দিকে কড়া দৃষ্টিতে তাকিয়ে বুঝিয়ে দিলেন সে যেন কোন বেফাঁস কথা না বলে। তিনি করিডোরে পায়চারি করতে লাগলেন। মনে মনে আল্লাহ আল্লাহ করছেন বেডি বেফাঁস কিছু না বলে। নতুন ঝামেলায় পড়তে চান না।
ডাক্তার সাহেবা কোমল গলায় মনোয়ারাকে জিজ্ঞেস করলেন, কেমন আছেন আপনি? ওই লোকটি কি আপনার ওপর কোন চাপ সৃষ্টি করেছে?
মনোয়ারার দুচোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে সে না সূচক মাথা ঝাকালো।
ডাক্তার ম্যাডাম মনোয়ারার হাতে হাত রাখলো। তিনি বললেন, ভয় পাবেন না। আমি বুঝতে পারছি আপনার ওপর প্রচুর অত্যাচার করা হয়েছে। আপনি নির্ভয়ে আমাকে বলতে পারেন আমি ব্যাবস্থা নেবো।
মনোয়ারা কাঁদতে কাঁদতে জড়ানো গলায় বললো, না আপা আমার কিছু হয় নাই।
ডাক্তার ম্যাডাম একটু চটে গেলেন, এই আপনাদের দোষ এত কিছুর পরও আপনারা মুখ বুঁজে সব অত্যাচার সহ্য করেন। যার জন্য ওদের সাহস আরও বেড়ে যায়। বলছি তো ভয় পাবেন না দরকার পড়ে মহিলাদের সাহায্য করার সংস্থার সাথে কথা বলবো। কি মার মেরেছে আপনাকে তাকানো যাচ্ছে না।
মনোয়ারা ডাক্তার ম্যাডামের হাত চেপে ধরে বললো, আপা আমার ছোট ছোট দুটো বাচ্চা আছে। আমার মা বাপ নাই সাত কূলে কেউ দেখার মত নাই। এসব করে আমি টিকতে পারবো না। মাইয়া দুইডা নিয়া পথে বইতে হইবো। কেউ আমাকে রোজ রোজ বাঁচাইতে আইবো না। দয়া করে কিছু করবেন না।
ডাক্তার ম্যাডাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, শুধুমাত্র সাহসের অভাবে আজ আপনাদের মত নিরীহ মানুষের ওপর এমন অত্যাচার বেড়ে চলেছে। মনে রাখবেন যতদিন মুখ বুঁজে থাকবেন অত্যাচার বেড়েই চলবে।
মনোয়ারা বললো, আপা সবাই কি সব কিছু পারে? পারে না। আমার একটা মাইয়ার গায়ের রং কালো তার পায়েও সমস্যা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাটে। তারে প্রায় সবাই অবজ্ঞা করে। আরেকটা মেয়ে একেবারে ছোট। পরিবারের বাহিরে গেলে এই দুই মাইয়া লইয়া আমি কই দাড়ামু। কে কয়দিন আমাগো দেখবো? আমি এমন কুনো কাম জানিনা যে নিজে কামাই কইরা ওগোরে খাওয়ামু আর যদিও বা কুনো কাম জুটে ওগোরে পালবো কে? আমরা গ্রাম গঞ্জের মানুষ বাপের নাম আর ছায়া ছাড়া এগোরে মূল্য দিবো কে? মান ইজ্জত নিয়ে বাঁচতে পারুম না।
ডাক্তার ম্যাডাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, অন্তত পুলিশের ভয় দেখানো যায় যেন এমন অত্যাচার আর না হয়।
মনোয়ারা মলিন হেসে বললো, আপা আপনার কি মনে হয় আমার কারণে একদিন বাড়িতে পুলিশ গেলে আমি সেই বাড়িতে টিকতে পারুম?
ডাক্তার সাহেবা বললেন, আপনি বুঝতে পারছেন না আপনি আর মা হতে পারবেন না। আপনার জরায়ুর অবস্থা খুব খারাপ ছিলো কেটে ফেলা লেগেছে। এখানেই আপনার শশুর শুনে আজেবাজে কথা বলছে। বাড়ির লোকেরা আপনার কি হাল করতে পারে বুঝতে পারছেন?
মনোয়ারা বললো আপা এখন তো আমার আরও খুঁত বের হলো এখন আমাকে আরও মানিয়ে চলতে হবে।
ডাক্তার সাহেবা গম্ভীর মুখে রুম থেকে বেরিয়ে এলেন।
মাজেদুল খুব ধুরন্ধর লোক। ডাক্তার সাহেবার রাগান্বিত চেহারা দেখেই বুঝতে পারলেন মনোয়ারা কোন নালিশ করে নি। মাজেদুল দাঁত কেলিয়ে বললেন, ম্যাডাম আমগো বাড়িত বেড়াইতে যাইয়েন।
ডাক্তার সাহেবার ইচ্ছে করছে ঘুসি মেরে লোকটার নাক ফাটিয়ে দিতে। কোন রকমে সেই ইচ্ছে দমিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে বললো, পুলিশ নিয়ে যাবার খুব ইচ্ছে ছিলো কপাল গুনে মনোয়ারার মত ছেলের বৌ পেয়েছেন। তিনি হনহন করে বেরিয়ে গেলেন।
মাজেদুল হাফ ছেড়ে বাচলো। এ যাত্রায় বেঁচে গেছেন।
আজিজুল তার পাশের গ্রামে এক বন্ধুর বাড়িতে উঠেছে। আপাতত বেশি দূরে যায়নি কাছাকাছি থাকছে যেন সব খবরাখবর তার কাছে আসে। পরিস্থিতি যদি খারাপ হয় বেডি মরেটরে যায় তাহলে সে দূরে কোথাও যেয়ে গা ঢাকা দেবে ভেবে রেখেছে।
বন্ধু রমিজের সাথে আজিজুলে খুব ভালো সম্পর্ক। অনেক দিন পর বন্ধু এসেছে বলে রমিজ বড় একটা মোরগ জবাই দিয়ে পুকুরে জাল টেনে মাছ ধরে দিয়ে বৌ কে ভালো মন্দ রান্না করতে বলে সে বন্ধুকে সাথে নিয়ে বাড়ির কিছুদূর সামনে চায়ের দোকানে গেল চা খেতে ও আড্ডা দিতে।
রমিজ তার বন্ধুকে বললো চলো আজ স্পিশাল (স্পেশাল) খাওয়ামু।
আজিজুল বললো চা তো চা-ই তার আবার স্পিশাল কি?
রমিজ বললো, 'ডাকু রানীর স্পিশাল চা' একবার খাইলে তার স্বাদ মরনের আগ পর্যন্ত ভুলবার পারবা না।
আজিজুল বললো, ডাকু রানী? সে আবার কি?
রমিজ বললো, শুনো বন্ধু ডাকু রানী কইলাম খুব ডেনজারাস মাইয়া তারে কেউ নাড়ায় না সবেই(সবাই) তারে ডরাই। তুমি কইলাম বেফাঁস কিছু বইলা বইসো না। হুনছি (শুনেছি) তার বাপ দাদা চাচা ভাইয়েরা হগগলে ডাকাত। তাগো গেরামের (গ্রাম)সব নাকি ডাকাত। একবার সেও নাকি ডাকাতি করতে গেছিলো তার গলার কাছে দাওয়ের কোপের দাগ অহনো আছে। সেও নাকি কোপ দিয়া কয়েকটা কল্লা ফালাইছে। সবসময় চকচকা ধারালো দাও লইয়া ঘুরে। সে নাকি স্বপ্নে পাইছে আবার ডাকাতি করতে গেলে তার মহা বিপদ তাই ডাকাতি ছাইড়া চা এর দুকান খুইলা বইছে। খুব ডেনজারাস মহিলা বাপরে বাপ ভয়ে তারে কেউ নাড়ায় না। সে বলে তার পিছে কেউ লাগলে তার ভাইগো খরব দিয়া ডাকাতি করাইবো তার বাড়ি। সবাই হ্যারে মাইনা গুইনা চলে। তুমিও সাবধান।
আজিজুল অবাক হয়ে শুনছিলো রমিজের কথা তার কাছে রুপকথার গল্পের মত লাগছে শুনতে আগ্রহ ও বাড়ছে। এরমধ্যে ওরা দোকানে পৌঁছে গেল। আজিজুল হা করে তাকিয়ে আছে।
শ্যামলা বর্ণের একটা মেয়ে দুই বেণী করা। জংলী ছাপার একটা সালওয়ার কামিজ পরা বুকের ওপর দিয়ে ওড়না নিয়ে কোমরে বাঁধা। সে একটা আধা বুড়ো লোকের কলার চেপে ধরে বলছে, তর কল্লা ফালাইয়া দিমু এক্কেরে। এক মাস ধইরা বাকিতে চা খাইস। টেকা কেডা তোর বাপে দিবো।
আজিজুল অবাক হয়ে ঢোক গিলে রমিজের দিকে তাকালো।
রমিজ হাসি মুখে বললো কইলাম না ডেনজারাস মাইয়া।
আজিজুল এমন তেজি মেয়ে আগে কখনো দেখেনি। সে এক প্রকার হ্যা করে তাকিয়ে আছে। মেয়েটা শ্যামলা বর্ণ কিন্তু কি সুন্দর চকচকে চেহারা। সাজের মধ্যে নাকে নোলক পরা তাকে আরও কমনীয় করে তুলেছে। গলায় একটা কাস্তের মত দাগ কিন্তু দাগটার জন্য তাকে আরও বেশি সুন্দর লাগছে। তাকে গলায় মালা পরতে হবে না দাগ টাই মালার কাজ করছে। এটাই মনে হয় ডাকাতি করতে যেয়ে লাগা সেই কোপের দাগ।
মেয়েটির চোখ তাদের দিকে পড়লো। সে ভুরু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করলো রমিজ ভাই এই নয়া পক্ষী কেডা। আগে তো নজরে আহে নাই।
রমিজ বললো, এইডা আমার জিগরি দোস্ত। পাশের গেরামে (গ্রাম) থাহে বহুত দিন পর আসছে। তারে আমি বইলা আনছি স্পিশাল চা খাওয়ামু। কুনোকালে এমুন চা খাও নাই। দুইডা মালাই চা দেও আমাগো। সারাজীবন মনে রাখবার মত।
ডাকু রানী তারিফ শুনে খুশি হলো তারপরও হালকা মুখ ঝামটা দিয়ে বললো, কি যে কন রমিজ ভাই। বহেন আপনেরা আমি চা দিতেছি।
আজিজুলের বুক ধুকপুক করছে। এই মেয়েটাকে তার খুব মনে ধরেছে। সে ফিসফিস করে রমিজ কে জিজ্ঞেস করলো ডাকু রানীর নাম কি? রমিজ বললো শেফালী। তয় সবাই ডাকু রানী বইলা চিনে।
আজিজুল চায়ে চুমুক দিয়ে বললো, বাহ্ শেফালী ম্যাডাম আপনি তো ভারী চমৎকার চা বানাইছেন। আসলেই এমুন সুন্দর চা আমি জীবনেও খাই নাই।
শেফালী চমকে উঠলো তাকে এভাবে আগে কেউ আসল নাম ধরে আপনি করে সম্বধন করেনি। তাকে সবাই ডাকুরানী নামেই ডাকে। শেফালী সন্দেহের চোখে আজিজুলের দিকে তাকিয়ে বললো, কি মিয়া মতলব কি?
আজিজুল কিছু বলার আগে রমিজ বললো, কি গো তুৃমি সব কিছুতে সন্দেহ করো। বন্ধু আমার সম্মান দিয়া তারিফ করছে।
আজিজুল বোকার মত বললো, কিছু মনে নিবেন না আপনে যেমন সুন্দর আপনার চা ও তেমন সুন্দর।
ডাকুরানী ও রমিজ অবাক হয়ে আজিজুলের দিকে তাকিয়ে রইলো।
#চলবে
#লেখাঃ #এম_আফরোজ_রূপালী

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url