Dr Zakir Naik English-Sister asked about Child Education and Nationalism

a woman made dr zakir smiling by her question while he made her cry by his answer

মোটা হওয়াটা কোন অপরাধ নয়। আমি জন্ম নিয়েছিলাম মোটা হয়ে। যদি মোটা হওয়াটা অপরাধ হতো,তাইলে সেই অপরাধটা আমার মা করেছিলেন। আমার জন্মের আগে তিনি বেশি বেশি খেয়েছেন,এর জন্যই আমি মোটা হয়েছি।
যাই হোক, আমার শরীর নিয়ে আমার কোন মাথাব্যাথা না থাকলেও আমার চারপাশের মানুষদের অনেক চুলকানি।
সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হচ্ছে,আমি খেতে ভীষণ পছন্দ করি। ছোটবেলায় সামনে যা পেয়েছি,মুখে দিয়েছি।
একবার চকচকে কালারের ৩ টা মার্বেল গিলে ফেলেছিলাম।
আমার ২ বছর বয়সে,আমি রাজশাহী বিভাগের সবচেয়ে স্বাস্থ্যবান শিশুর পুরষ্কার পাই। সেটার ছবি আমার ঘরে এখনো টানানো আছে।
সোফার উপর একটা মোটা বাচ্চা বসে আছে।তার গলায় একটা মেডেল। সে মেডেলটা কামড়াচ্ছে।
হ্যা,আমি খেতে খুবই পছন্দ করি।
প্রতিদিন সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই স্কুলে যেতে হয়। মা গোটা দশেক পরোটা ভেজে দেয়,সেগুলোর সাথে আলুভাজি বা ডিমভাজি থাকে। তারাতাড়ি খেয়েই স্কুলের পথ ধরি।
স্কুল পেতে পেতে আবারও ক্ষুধা লাগে। স্কুলের বাইরে ঢাকার নাস্তা নামক বিখ্যাত সুজি এবং পরোটার মতো দেখতে,কিন্তু খুবই নরম এক প্রকারের খাবার থাকে,সেগুলো খেয়ে ফেলি।
ক্লাস শুরু সকাল ৮ টায়। ক্লাসে বসেও প্রচন্ড ক্ষুধা অনুভব করতাম।
যাই হোক। ভালোই চলছিলো জীবন। মহিষের শিং যেমন তার কাছে ভারী মনে হয় না,আমার ওজনও আমার কাছে তেমন কিছু লাগে না।
ঘটনাটা ঘটলো ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ার সময়।
আমাদের সাথে আখি নামের একটা মেয়ে পড়তো। দেখতে শুনতে মাশাল্লাহ। ক্লাসের অনেক ছেলের মতো,আমি নিজেও তার উপর ক্রাশ খেলাম।
কিভাবে মনের কথা তাকে বলা যায়,সেই সমীকরণ কষে ফেললেও তার সামনে যাওয়ার মতো সাহস সঞ্চার করতে পারি না।
একদিন কেমেস্ট্রি ক্লাসে আমাদের স্যার সবাইকে পড়া জিজ্ঞাসা করছিলেন। আমার সিরিয়াল আসতেই বিশাল শরীর নিয়ে দাঁড়িয়ে পরলাম। চারিদিক থেকে মন্তব্য আসতে লাগলো,
-কোন দোকানের চাউল খাও বাবা?
-মরলে গরুর গাড়ি লাগবে।
ইত্যাদি ইত্যাদি।
গুণগত রসায়নের কোয়ান্টাম সংখ্যা থেকে স্যার আমাকে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলেন। উত্তরটা জানা ছিলো,তাই সঠিক উত্তর দিয়ে ফেললাম।
২০০ জনের মাঝে সঠিক উত্তর দিয়ে হিরো হওয়ার অভিজ্ঞতা সবার হয় না। তাই হিরো হিসেবে সামনের চুলগুলো আলতো স্পাইক করে আখির দিকে তাকালাম। আমার দিকেই তাকিয়ে আছে।
সেদিনই ঠিক করে ফেলি,ক্লাস শেষে আখিকে বলে দিবো আমার মনের কথা। ধপ করে ব্রেঞ্চে বসে পরলাম। হাল্কা মুড়মুড় আওয়াজ কানে এলো। ব্রেঞ্চ বেচারা ওজন সহ্য করতে পারছে না বোধ হয়।
ক্লাস শেষে রিক্সার জন্য দাঁড়িয়ে আছি। কোন রিকশাওয়ালা আমাকে সাধারণত তুলতে চায় না। তুললেও দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করে। অপেক্ষা করতে করতেই হঠাৎ দেখলাম আখিও এসে পাশে দাড়ালো।
আমার মনে তখন লাড্ডু ফুটছে। চারিদিকে কেও নেই। এইতো সময়। যদি দুয়েকটা চড় থাপ্পড়ও খাই,দেখার কেও নাই। প্রপোজটা করেই ফেলি!
কিন্তু হঠাৎই দেখতে পেলাম কাবাব মে হাড্ডি। ক্লাসের কয়েকজন এদিকেই আসছে। প্রপোজ করার চিন্তা আপাতত মুলতবি।
তবে হিরো হওয়ার সুযোগ ছাড়া যাবে না। একটা রিকশা ডেকে দিতে পারলেও অনেক কিছু।
রিকশাওয়ালা মামা দাত কেলিয়ে এগিয়ে এলো। আমি সম্মানের সাথে আখিকে রিকশায় উঠতে বললাম। আখিও থ্যাংকস বলে উঠে পরলো। আহা! কি সুন্দর অনুভূতি। আজ থ্যাংকস বলছে,কাল আইলাভিউ বলবে।
হঠাৎই আরেকটা আশ্চর্যজনক ব্যাপার ঘটে গেলো। আখি রিকশার সাইডে চেপে গিয়ে বললো,
-মাফি,তুমিও উঠে এসো। একসাথে বাড়ি যাই।
আমি রিকশাওয়ালার করুণ মুখের দিকে তাকালাম। কিন্তু রিকশাওয়ালা মামা উলটো অভয় দিলো। তিনি নাকি চারটা দুই মনের গমের বস্তা টানতে পারেন। আমার আর কি ওজন!
রিকশার সিট বড়ই ছিল।চাপাচাপি না করেই দুজনের যায়গা হয়ে গেলো।
আহা! কি সুন্দর মুহুর্ত। পিছনে কপিরাইট মিউজিক বাজছে। রিকশায় পাশাপাশি বসে তার সাথে পথ চলছি। মৃদু বাতাস...
হঠাৎ প্রচন্ড বোমা বিষ্ফোরণ এর শব্দ হল।আমাদের রিকশার চাকা ফেটে গেছে।
আখি লজ্জায় রিকশা থেকে নেমে গেলো। সেইদিন আমি কিভাবে বাড়ি পৌঁছালাম,আমার মনে নেই। কিন্তু তার পরদিন থেকেই আমি জিমে ভর্তি হই। পাশাপাশি ডায়েট শুরু করি।
তারপর এক বছরের ব্যাবধান। ওজন অনেক কমে গেছে। বাহু দুটিতে পেশি দেখা যাচ্ছে। হুট করে দেখলে কেও চিনতে পারে না। রোজ দৌড়াই
,পাশেই বিজিবি ক্যাম্পের পুকুর। সেখানে সাতার শিখি।
আর হ্যা,আখি আমার গার্লফ্রেন্ড। আমার সেই নাদুসনুদুস শরীর থেকে শুরু করে বর্তমান আমি পর্যন্ত আসতে সে কম অবদান রাখেনি।
একজন মানুষ চাইলে কি না পারে! আত্মবিশ্বাস থাকলে আর পরিশ্রম করলে সৃষ্টিকর্তা ফলাফলটা খুব দ্রুতই দিয়ে দেন।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url