জাকির নায়েকের সাথে প্রচণ্ড কথা কাটাকাটি বিধর্মী যুবকের || Dr.Jakir Nayek

জাকির নায়েকের সাথে প্রচণ্ড কথা কাটাকাটি বিধর্মী যুবকের   Dr.Jakir Nayek

নিতুর বাবা সবার সাথে বাইরের ঘরে বসে আছেন, এসময়ই এক ছেলে দৌড়ে এসে তার কানে কানে বললো, 'চাচা, যেই ছেলের সাথে নিতু শেষে কথা বলেছে, তার নাম্বার পাওয়া গেছে।'
'তাই নাকি? এখনি ফোন লাগা।'
আলিফ নিতুর বাবার সামনে বসে ছিলো। ফোনে কল দেওয়ার সাথে সাথে তার ফোন বাজতে লাগলো। সে নিতুর বাবার কথাগুলো তখন শুনতে পারেনি, ফোনে কল আসার সাথে সাথেই সে কানে মোবাইল লাগিয়ে বললো, 'হ্যালো।'
ওপাশে কেউ কথা বলে না। আলিফ 'হ্যালো, হ্যালো' করতে করতেই সামনে তাকিয়ে দেখে, নিতুর বাবা তার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে, তার কানেও মোবাইল।
আলিফ বুঝতে পারলো সে ধরা পড়ে গেছে। কিভাবে এর থেকে বেরিয়ে আসা যায় চিন্তা করছে, এরমধ্যে ভিতরের ঘর থেকে নিতুর মা দৌড়ে বেরিয়ে এসে বললো, 'এই শুনছো। নিতু তো ফিরে আসছে। বরযাত্রীদের সাথেই লুকিয়ে লুকিয়ে ঘরে ঢুকে গেছে ও।'
নিতুর বাবা আলিফের বাবার দিকে তাকিয়ে বললো, 'ভাইসাব, এসব কি?'
আলিফের বাবা দেখলো ভীষণ বিপদ। নিতুর বাবার যেই কথা একটু আগে শুনেছে, তাতে এখন যদি জানতে পারে আলিফ উনার মেয়েকে নিয়ে পালিয়েছিলো, তাহলে ঠিক আলিফকে গুলি করে দিবে। এখন ছেলের জীবন বাঁচাতে যা করতে হয় তিনি করবেন।
তিনি হাসতে হাসতে বললেন, 'ভাইসাব, এটাইতো সারপ্রাইজ।'
'মানে?'
'মানে হলো, আমার ছেলের খুব শখ ছিলো একটু অন্যরকমভাবে চমক লাগিয়ে বিয়ে করবে। তাই ওরা সবাই মিলে আগেই প্ল্যান করে রেখেছিলো, পার্লার থেকে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি চলে আসবে। সেই বুদ্ধি করেই আমার ছোট ছেলেকে পাঠায় আপনার মেয়েকে তুলে আনতে। আমি তো এসবের কিছুই জানতাম না, জানলে তো শুরুতেই মানা করতাম। ওরা আমাকে এ কথা জানিয়েছে একদম রওনা হওয়ার আগে। তার উপর আমাকে মানাও করে দিয়েছিলো যাতে আপনাকে কিছু না বলি, ওরাই একসময় সত্যিটা বলে দিবে। দেখেন তো দেখি কি ছেলেমানুষি। ওদের মাফ করে দেন ভাই।'
'এটা কোনো কথা হলো। কি এক কেলেঙ্কারির ব্যাপার। আপনি আগে জানাবেন না?'
'আসলেই ভাই, আমারো ভুল হয়ে গেছে বিষয়টা।'
'আচ্ছা, যা হওয়ার হয়েছে। এখন তো সব ঠিকঠাক। নিতুকে এখন তাহলে বৌয়ের জায়গায় নিয়ে বসাও।'
আলিফ কিছু বলতে চাচ্ছিলো, ওর বাবা ইশারায় ওকে থামিয়ে দিলো।
এদিকে সায়মা যখন শুনলো নিতু ফিরে এসেছে, ওর দুঃখের সীমা রইলো না। বরটাকে ওর পছন্দ হয়েছিলো। তাছাড়া বিয়ের সাজপোশাক পড়ার পর সেও বিয়ে নিয়ে সুন্দর স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলো। সেই স্বপ্নটা যেন একটানে ছিঁড়ে ফেললো কেউ। কাউকে দুঃখের কথাটা সে বলতেও পারলো না, চোখের দু'ফোঁটা জল মুছে নিলো সবার অগোচরে।
নিতু আবার সেজেগুজে স্টেজে এসে বসেছে। ওর পাশে সায়মা দাঁড়িয়ে। ওকে দেখিয়ে আলিফের বাবা নিতুর বাবাকে জিজ্ঞেস করলো, 'ভাইসাব। ওর সাথেই কি আমার বড় ছেলের বিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন?'
'হ্যাঁ।'
'মেয়েটা তো ভারি সুন্দর। কিন্তু চোখেমুখে কি এক দুঃখের ছাপ! সত্যি তো, ওর তো মন খারাপ হবারই কথা, বিয়ের কথা বলেও মেয়েটার বিয়ে হলো না।'
'কি করবো বলেন? এমন কিছু যে হবে তা কি ভাবতে পেরেছিলাম? ওর মুখের দিকে আমিও তাকাতে পারছি না, চিরকাল ওর কাছে আমার অপরাধী হয়ে থাকতে হবে।'
'ভাই, তাহলে একটা প্রস্তাব দিতে চাই।'
'বলেন।'
'আপনি যখন প্রথমে ওর সাথে আমার ছেলের বিয়ের কথাবার্তা বলেছিলেন, তখনই ওর ব্যাপারে আমি খোঁজখবর নিয়েছিলাম। মেয়েটাকে আমার খুবই পছন্দ হয়েছিলো। এখন আমি চাই না কেউ আজকে দুঃখ নিয়ে বাড়ি ফিরে যাক। আপনার আপত্তি না থাকলে ঐ মেয়েটির সাথে আমার বড় ছেলের বিয়ে দিতে চাই।'
'তাহলে, আমার নিতুর কি হবে?'
'ভাইসাব, সেটাও আমি ভেবেছি। আমার ছোট ছেলেটা যোগ্যতায় ওর বড় ভাইয়ের থেকে কোনো অংশেই কম না। মাত্র পড়ালেখা শেষ করেছে, তাই এখনো চাকরি পায়নি, কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি খুব ভালো একটা চাকরিতে ঢোকার সম্ভাবনা আছে ওর। ওর বয়সও প্রায় নিতু মার কাছাকাছি, দুটিতে মিলবে ভালো। আপনার আপত্তি থাকলে নিতুকে আমার ছোট ছেলের বউ করবো।'
নিতুর বাবা কিছুক্ষণ চিন্তা করে সায় দিলো এই প্রস্তাবে। অবশেষে ধুমধাম করে বিয়ের আয়োজন শেষ হলো। আলিফের বাবা দুই ছেলে এবং দুই পুত্রবধূকে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন।
ফেরার পথে আলিফের ভাই আলিফের কানে কানে জানতে চাইলো, 'কিরে, নিতুকে তো আগেই বিয়ে করেছিলি না? তোদের এক বিয়েই দুইবার হলো।'
আলিফ হাসতে হাসতে বললো, 'ভাইয়া, নিতুর সাথে বিয়ে আমার একবারই হয়েছে। আগেরবার আমরা বিয়ে করিনি। ওটা তোমার আর নিতুর বিয়ে ঠেকানোর জন্য মিথ্যে বলেছিলাম।'
(শেষ)
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url