Tips To Use Others Video without Copyright Claim/Strike (Creative Commons)

Tips To Use Others Video without Copyright Claim/Strike (Creative Commons)

কবিরাজ মশাইয়ের কথা শুনে মিরা এবং মিরার মা উভয়েই চমকে উঠলেন। তাহলে মিরার শাশুরীর মারা যাওয়ার সাথে এই তাবিজের কোনো হাত নেই? তবে কেইবা মিরার রাখা তাবিজটি সরিয়ে অন্য একটি তাবিজ ওর শাশুরীর বিছানার নিচে রেখেছিল? এটাকি মিরাকে ধোঁকা দেওয়ার প্রয়াস নাকি অন্যকিছু? তাছাড়া মিরার শাশুরীর আকস্মিক রক্তবমি হওয়ারও বা কারণ কি ছিল?
এতসব কথা মাথায় ঘুরপাক খাওয়ার ফলে মিরা এবং মিরার মা উভয়েই বেশ চিন্তিত হয়ে পরে। কবিরাজের থেকে বিদায় নিয়ে আসার পথে মিরা ওর মাকে বললো,
-আমরা শুধু শুধুই এতো চিন্তা করছি মা।
আমার শাশুরী মায়ের বোধহয় লিভারজনিত কোনো সমস্যার কারণেই এভাবে মৃত্যু হয়েছে এর বেশিকিছু না।
মিরার মা সন্দেহচক্ষু নিয়ে বললেন,
-তাহলে তোর তাবিজটা সরিয়ে এই ভুয়া তাবিজটা রাখার মানে কি?
-ধুর ঐটা হয়তো কাজের মেয়ে সালমা দুষ্টুমি করে রেখেছে ওখানে। আর ওর এমনিতেও একটু হাতানোর স্বভাব আছে। শাশুরী মা মারা যাওয়ার পর হয়তো তাঁর ঘরে ও কিছু পাবে এই আশায় হাতাহাতি করেছিল। আর মা একটি কথা শুনে রাখো, এসব তাবিজ কবজের ব্যপারে আমাকে কখনোই আর আগ্রহী করে তুলবে না।
আমি আজ কান ধরলাম এইসব তাবিজ কবজের ধারেকাছেও আর কখনো ঘেঁসবো না।
-চুপ থাক ছ্যামড়ি! তুই কি জানিস এই তাবিজ আমাকে কত কিছু এনে দিয়েছে? এমনকি তোর জন্ম হওয়ার জন্যও আমি তাবিজের শরণাপন্ন হয়েছিলাম এবং আমার মনের আশাও পূরণ হয়েছিল।
-শোনো মা এইসব ফালতু তাবিজ কখনো মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেনা। ভাগ্য পরিবর্তন করার মালিক একমাত্র সৃষ্টিকর্তা। তুমি এই তাবিজের প্রতি এতোটাই ব্যুদ হয়ে গিয়েছ যে সৃষ্টিকর্তার থেকেও তুমি এটাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছো এবং দিন দিন নিজের গুনাহের পাল্লা ভারী করছো। অচিরেই আমি তোমার অধঃপতন দেখতে পাচ্ছি।
-এসব নিয়ে আর তোকে মাতব্বরী করতে হবেনা। এখনি তোর শ্বশুর বাড়ি চলে যা আমার এখানে থাকার দরকার নেই।
-আমি কি এখানে ইচ্ছে করে এসেছি নাকি? তুমিইতো জোর করে নিয়ে এলে আর তোমার এখানে থাকার ইচ্ছেও আমার নেই এখনি চলি তবে।
অতঃপর মায়ের সাথে অনেকটা অভিমান করেই মিরা তাঁর শ্বশুর বাড়িতে ফিরে এলো।
বিকালে বাপের বাড়িতে গিয়ে সন্ধ্যাতেই আবার মিরাকে ফিরে আসতে দেখে বেশ অবাক হলো মুনিম।
সে কিছুটা কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
-একি এতো তাড়াতাড়ি চলে আসলা যে? মায়ের সাথে আবার ঝগড়া হয়েছে নাকি? আর তুমিতো এমনিতেও দুদিনের বেশি সেবাড়িতে থাকতে পারোনা।
এই বলে মুনিম বাঁকা হাসি দিতেই মিরার রাগ বোধহয় আরো কিছুটা বাড়লো। সে বেশ কর্কশ কন্ঠে বলে,
-হুম এসে পরেছি। এখন তুমি যদি বলো তবে আবার ফিরে যাবো। তুমিতো এমনিতেও চাওনা যে আমি তোমার সাথে থাকি। তাইনাহ?
-ধুর কে বলছে একথা? তোমাকে ছাড়াতো আমি একটি রাতও ঘুমাতে পারিনা তাইতো তোমাকে আমার শ্বশুর বাড়িতে একদিনের বেশি থাকতে বারণ করি। একটু কাছে আসো।
-শোনো, এসব ন্যাকামো আমার এখন একদমই ভালো লাগছে না। সরো সামনে থেকে।
মিরা মনের মধ্যে বেশ রাগ পুষে রেখেই মুনিমের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেল।
.
মুনিমের বড় ভাই মিরাজের হঠাৎই ফোনে একটি কল আসা মাত্রই সে অতি তাড়াহুড়োর সহিত রেডি হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাঁর এমন অবস্থা দেখে সুমি জিজ্ঞেস করলো,
-কি হলো এমন তাড়াহুড়া করছো কেন? কোনো সমস্যা হয়েছে নাকি?
-আরে আর বলো না। হঠাৎ করেই আমার দোকান থেকে সাতশ পঁঞ্চাশ গ্রাম স্বর্ণ চুরি হয়ে গেছে।
এতোগুলো স্বর্ণের দাম কত টাকা তা তুমি ভাবতে পারছো? এখন এগুলো যদি উদ্ধার করতে না পারি তাহলে আমাকে পথে বসতে হবে।
স্বামীর মুখে এমন কথা শুনে ধপ করে মেঝেতে বসে পরলো সুমি।
তাঁর বাকশক্তি যেন সীমিত সময়ের জন্য লোপ পেল বোধহয়। কারণ এতোগুলো বছর ধরে তাঁরা সেই ক্ষুদ্র অবস্থা থেকে আজ এতো বড় পর্যায়ে এসেছিল এই স্বর্ণ ব্যবসাকে অবলম্বন করেই। আর আজ কিনা এতোগুলো টাকার স্বর্ণ মুহূর্তেই চুরি হয়ে গেল?
ইতোমধ্যে বাড়ির সবার কানে কানে পৌঁছে গিয়েছে যে বড় ভাই মিরাজের এক বড় অঙ্কের টাকার স্বর্ণ চুরি হয়েছে। মিরাজ ঢাকাতে চলে গেলেও সুমি এখনো বাড়িতেই ছেলেমেয়েদের নিয়ে অবস্থান করছে। কারণ এতো ঝক্কিঝামেলার মধ্যে মিরাজ সুমিকে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেনি।
সুমি কিছুক্ষণ পরপরই হেঁচকি তুলতে তুলতে কান্না করছে এবং মিরা আর রাইসা তাকে ব্যর্থ সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেও সফল হচ্ছে না। স্বামীর এতো বড় ক্ষতি কোনো স্ত্রীই মন থেকে মেনে নিতে পারবে না এটাই স্বাভাবিক।
.
মিরাজ ঢাকায় নিজের ব্যবসায়িক কর্মস্থলে পৌঁছানো মাত্রই সে সকল কর্মচারীকে জেরা করতে শুরু করলো। কিন্তু তাঁর বিশ্বস্ত কর্মচারী শফিককে সেখানে উপস্থিত না দেখে সকলের উদ্দেশ্যে জিজ্ঞেস করলো,
-ঐ শফিক কোথায়? ওকেতো দেখছি না।
তন্মধ্যে একজন জবাব দিলো,
-ভাইজান, স্বর্ণ চুরি হওয়ার পর থেকেই শফিকের কোনো খোঁজ নাই। আমগো মনে হইতাছে শফিকই স্বর্ণগুলা চুরি করছে।
এমন কথা শুনে মুহূর্তেই মিরাজের মাথা প্রচন্ড গরম হয়ে যায়।
পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও তাঁরা শফিকের ঠিকানা যাচাই বাছাই করেও তাকে খুঁজে পায়না। কারণ শফিক তিনবছর আগে যখন মিরাজের এখানে চাকরি নিয়েছিল তখন সে তাঁর যেই ঠিকানা এবং আইডি কার্ড এর ফটোকপি তাকে দিয়েছিল তাঁর সবটাই ভুয়া।
পুলিশ ধারণা করছে হয়তো শফিক সেই তিনবছর আগেই চুরির প্রস্তুতি নিয়ে এখানে চাকরি নিয়েছিল এবং সে যখন মিরাজের পূর্ণ বিশ্বস্ততা অর্জন করতে সক্ষম হয় আর তাঁর সব গোপনীয়তা সম্পর্কে জানতে পারে ঠিক তখনি সে সুযোগ বুঝে চুরি করে পালিয়ে যায়।
মিরাজ জানে দেশের পুলিশদের যা অবস্থা তাতে তাঁরা আদৌ তাঁর স্বর্ণগুলো খুঁজে এনে দিতে পারবে না। হঠাৎই মিরাজের মনে পরে গেল সেই বাইশ বছর আগের নিকৃষ্টতম ঘটনা,
তখন মিরাজের বয়স ছিলো পঁচিশ বছরের কাছাকাছি। তাঁদের পরিবারটা এতোটাও অবস্থাসম্পন্ন ছিল না। মিরাজের বাবার গঞ্জে একটি ছোট্ট কাপড়ের দোকান ছিল যাতে তাঁদের এতবড় পরিবারের খাওয়া দাওয়ার খরচ চালিয়ে নিতেই বেশ বেগ পেতে হতো।
মিরাজ আর তাঁর বাবা প্রতিদিনই সেই দোকানের কাজ সেড়ে রাতে দীর্ঘ পাঁচমাইল পথ হেঁটে হেঁটেই তাঁরা দুজন বাড়ি ফিরতেন।
একদিন রাতে রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তাঁরা দেখতে পায় পাশেই একটি ছোটখাঁটো বাংলো বেশ মাথা উঁচু করে মাটির উপরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। হঠাৎই সেই বাংলোর ভিতর থেকে চিৎকারের আওয়াজ শুনে মুহূর্তেই তাঁরা দুজন সেখানে প্রবেশ করে। প্রবেশ করা মাত্র তাঁরা ভিতরের দৃশ্য দেখে অবাক নয়নে স্থিরচিত্তে দাঁড়িয়ে থাকে। এ যেন এক রাজপ্রাসাদের থেকে কোনো অংশেই কম নয়। ঘরের প্রতিটি অংশেই দামী আসবাবপত্রের মাধূর্যতায় ভরপুর।
হঠাৎই তাঁদের চেতনা ফেরে সামনে থাকা এক যুবতীর কান্নার আওয়াজ শুনে। একজন লোক মেঝেতে অজ্ঞান হয়ে পরে আছে এবং তাঁর জ্ঞান ফেরানোর অজস্র চেষ্টা করেও সেই যুবতী মহিলা সফল হচ্ছেনা। মিরাজ আর তাঁর বাবা তখন এই দৃশ্য দেখে আর স্থির থাকতে পারলোনা বরং দৌড়ে গিয়ে মহিলাকে জিজ্ঞেস করলো,
-আপা! ওনার কি হইছে?
মহিলা কাঁদতে কাঁদতে জবাব দিলো,
-ওনার কয়েকবছর থেকেই মাইগ্রেনজনিত সমস্যা রয়েছে।
তাই মাথায় প্রচন্ড ব্যাথা উঠলেই অজ্ঞান হয়ে যায়। আপাতত ঔষধও শেষ হয়ে গেছে এবং বাসার কাজের লোকগুলাও ছুটিতে আছে। এই মুহূর্তে যদি ওনাকে হসপিটালে নেওয়া না হয় তবে মারাত্মক কিছু হয়ে যেতে পারে।
মিরাজের বাবা তখন মেয়েটির এমন অসহায়ত্ব দেখে বলে উঠলো,
-দেখো মা! তুমি একদম চিন্তা করবা না। আমরা থাকতে তোমার কোনো ভয় নাই। আমরাই ওনারে হসপিটালে নিয়া যামু, ঐ মিরাজ তুই ওনারে কাঁধে নে।
অতঃপর অনেক কষ্ট করে তাঁরা দুই বাপ ছেলে লোকটিকে কাঁধে করেই দেড় কিলোমিটারের মতো রাস্তা হেঁটে পাড়ি জমালো।
পরবর্তীতে গঞ্জে এসে একটি ভ্যানে যুবতীকে তাঁর স্বামীসহ উঠিয়ে দিয়ে তাঁরা বিদায় নেয়। বিদায়বেলা যুবতী মহিলাটি তাঁদের এই সাহায্যের প্রতিদানস্বরূপ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে এবং তাঁদেরকে নিজেদের বাসায় নিমন্ত্রনও করে।
মিরাজ ও তাঁর বাবা মুখে সেই মহিলার নিমন্ত্রন গ্রহণ করলেও তাঁদের মনের বাক্যবিন্যাস ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। কারণ তখনও তাঁদের চোখে সেই বাংলোর দামী জিনিসপত্রের অবয়ব ঘোরাঘুরি করছিল।
সেই ঘটনার তিনদিন পর মিরাজ ও তাঁর বাবা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েই সেই বাংলোতে চুরি করার জন্য রওয়ানা দেয়। অজস্র কাঠখড় পুড়িয়ে তাঁরা সেই গভীর রাতে বাংলোর ভিতরে ঢুকে যখন এটা ওটা চুরি করছিল ঠিক তখনি শব্দ পেয়ে বাড়ির কর্তা অর্থাৎ সেই অসুস্থ ব্যক্তিটি বের হয়ে আসে।
মিরাজ এবং তাঁর বাবা ধরা পরে যাওয়াতে প্রচন্ড ভয় পেয়ে যায় তাই তাঁরা আর একমুহূর্ত দেরি না করে সাথে থাকা মোটা লাঠিটা দিয়ে লোকটির মাথা বরাবর এক প্রকান্ড বারি দিয়ে বসে। তাঁদের বারির আঘাতে সে আর তাল সামলাতে না পেরে চিৎকার দিয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পরে।
স্বামীর এমন চিৎকার শুনে যখন সেই যুবতীটি রুম থেকে বেড়িয়ে এসে এমন ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখতে পায় তখন সে চিৎকার করার আগেই মিরাজ এবং ওর বাবা একটি শক্ত কাপড় দিয়ে মহিলার মুখ বেঁধে ফেলে। তাঁরা তখন ভেবে পাচ্ছিল না যে কি করবে কেননা সেই সময়ে যদি তাঁরা এদেরকে এভাবেই রেখে পালিয়ে যায় তবে পুলিশের হাত থেকে একটুও রেহাই পাবেনা।
ফলে দুজনে এক নিকৃষ্ট সিদ্ধান্তে উপনীত হয়, প্রথমে দুজন মহিলাটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পরক্ষণেই তাঁর স্বামীকেও সেই অজ্ঞান অবস্থাতেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। অতঃপর সেই বাড়ির সিন্ধুক ভেঙ্গে টাকাপয়সা এবং স্বর্ণগহনা চুরি করার পর লাশগুলো এমনভাবে ফেলে রাখে যাতে কেউই যেন আসল খুনীকে শনাক্ত করতে না পারে।
সেদিন তাঁদের মিশনটি সফল হয়েছিল ঠিকই তবে এই অবৈধ টাকা মিরাজ কিংবা তাঁর পরিবারকে কখনোই সুখ এনে দিতে পারেনি। কারণ গত কিছু বছর থেকে ওদের পরিবারে কোনো না কোনো বিপদ আসতেই থাকে।
গতবছর মিরাজের বাবার আকস্মিক রোড এ্যাক্সিডেন্টের পাশাপাশি কিছুদিন আগে মায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু, এরমধ্যে আবার মিরাজের স্বর্ণচুরির ঘটনা। হয়তো সৃষ্টিকর্তা অবৈধ অর্থের মধ্যে কখনোই কল্যাণ লুকিয়ে রাখেননি।
.
মিরা নিজের রুমে যাওয়ার সময়ে হঠাৎই কারো নিশ্চুপ স্বরে লুকিয়ে কথা বলতে দেখে অবাক হয়। বারান্দার কিছুটা কাছে আসতেই সে খেয়াল করে কাজের মেয়ে সালমা কারো সাথে ফোনে কথা বলছে।
তুমুল আগ্রহ নিয়ে সে যখন নিজের কানটা একটু খাঁড়া করে তখনি সে শুনতে পায়,
-শোনো, যেই তাবিজটা তুমি দিছিলা ঐটা হঠাৎ কইরা উধাও হইয়া গেছে। আর খালাম্মার এইভাবে মরার কারণে আমারও কিন্তু ভয় করতাছে। তুমি এক কাজ করো, আরেকটা মারাত্মক তাবিজ আমারে আইনা দাও তাইলে ঘরের সবগুলারে আধমরা বানাইয়া সবকিছু নিয়া অতিদ্রুত আইসা পরতে পারমু। যা করার তাড়াতাড়ি কইরো।
সালমার মুখে এমন কথা শুনে মিরার হাত পা থরথর করে কাঁপতে শুরু করে। তার মানে ও এবাড়িতে কাজের লোক সেজে ডাকাতি করতে এসেছে? এসব ভাবনার মাঝে হঠাৎই বড় ভাবী সুমির চিৎকার শুনে মিরা বারান্দার আড়াল থেকে সরে যায়। সবাই চিৎকারের কারণ জানতে সুমির রুমে দৌড়ে আসে কিন্তু সে কাঁদতে কাঁদতে এতোটাই দুর্বল হয়ে গিয়েছে যে কথা বলার শক্তিটাও যেন হারিয়ে ফেলেছে।
সবাই তাকে অজস্র বার জেরা করার পর সুমি হেঁচকি তুলতে তুলতে বলে ওঠে,
-তোমার ভাই আত্মহত্যা করেছে।
এই কথা শোনামাত্রই সবাই স্তব্ধ হয়ে যায়। মুনিম এমন কথা শুনে উত্তেজিত কন্ঠে বলে ওঠে,
-কি বলছেন এসব? সামান্য স্বর্ণ চুরির হয়ে যাওয়ার কারণে ভাইয়া কেন আত্মহত্যা করবে?
কিন্তু মুনিমের কথার কোনো জবাব দিতে পারেনা সুমি।
মিরার মনে তখন সালমার বলা কথাগুলো বারবার উঁকি দিতে থাকে। সালমা কি আসলেই তাবিজের সাহায্যে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে নাকি এর পিছনে আরো বড় কোন রহস্য লুকিয়ে রয়েছে?
নাকি সত্যিই বড় ভাই মিরাজ স্বর্ণ চুরির বিরহে নিজেই নিজের জীবন কতল করেছে? প্রশ্নগুলো থেকেই যায়...............
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url