Dr. zakir naik bangla lecture New 2017 about woman and hoor

Dr. zakir naik bangla lecture New 2017 about woman and hoor

স্নায়ুরোগে আক্রান্ত হয়ে মা শয্যা নিয়েছে তিন মাস হল। এরই মধ্যে বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য তোড়জোড় শুরু করলো। পরিচিতদের কাছে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করতে শুরু করলো কারো সন্ধানে মেয়ে আছে নাকি! আত্মীয়দের মধ্যে তিনজন আছে যাদের বয়স পঁয়ত্রিশ পেরিয়ে গেছে কিন্তু বিভিন্ন কারণে বিয়ে হয়নি তাদেরও হাতে রাখলো। 
 
মা যখন পুরোপুরি সুস্থ ছিল, হাঁটাচলা করতে পারত, সংসারের সব ঠিক ছিল তখনকার সেই বাবার সাথে এই বাবাকে মিলাতে পারলাম না। আমার তখনকার বাবা আমার মা'কে ভীষণ ভালোবাসত। আমার মা'কে সামান্য কষ্ট দিত না। আর এখনকার বাবা তো আমার মা'কে সবচেয়ে বড় কষ্ট দিতে চলেছে। ভালোবাসা বাকি থাকলে হয়ত এই সিদ্ধান্ত নিতে পারত না।
 
আমি জানি একটা সময় মানুষ একা থাকতে পারে না। একজন কাছের মানুষের খুব দরকার হয়। সন্তানরা সাধারনত বাবা-মার ব্যাপারে পজেসিভ হয়। তাই আমারও হয়ত কষ্ট লাগতো। কিন্তু তবুও আমি বাবার বিয়ে মেনে নিতাম। কিন্তু মা'র বর্তমানে বাবার এই সিদ্ধান্ত আমাকে ভীষণ আঘাত করলো।
মা'র অসুস্থতার প্রথম মাসেই বাবা পাল্টে যেতে শুরু করেছিল। মা'কে ডাক্তার দেখাতে গড়িমসি করত। অল্পতে রেগে যাচ্ছিল। অসুস্থ মা'কে এসে ধমকাতো। বাসায় দেরি করে ফিরতে শুরু করেছিল। একসময় মা'র ঘরে আসাই বন্ধ করে দিল। যতক্ষন বাবা বাসায় থাকতো আমার অসুস্থ মা চাতক পাখির ন্যায় দরজার দিকে তাকিয়ে থাকতো বাবার আশায়। কখনো কখনো বাবাকে ডেকে পাঠাতো মায়ের দেখাশোনার জন্য আমাদের সাথে থাকা কুসুম খালাকে দিয়ে। বাবা ধমক দিয়ে তাকে ফেরত পাঠাতো।
 
পরের মাসে অঢেল ধনসম্পদ আর ব্যাংকে লক্ষ লক্ষ টাকা থাকা সত্ত্বেও মা'র চিকিৎসা বন্ধ করে দিল। খবর পেয়ে বড় মামা আসলেন। মা'র চিকিৎসা চলমান রাখতে বললেন। কিন্তু এই প্রথম বাবা বড় মামার কথা শুনল না। উল্টা বলে দিল মা'র পেছনে একটা টাকাও আর নষ্ট করবে না। পারলে বড় মামা যেন নিয়ে গিয়ে বোনকে চিকিৎসা করায়। স্বাভাবিকভাবেই বড় মামার মুখে তালা লেগে যায়। বড় মামার এতো টাকা থাকলেও তার এতো খরচ করার স্বভাব নেই।
 
এই ঘটনার পরে নানাবাড়ির লোকেরাও আসা প্রায় বন্ধ করে দিল পাছে তাদের উপরে ভার পড়ে!
বাবার বিয়ে করার খবরটা সম্ভবত কুসুম খালার কাছ থেকে পেয়েছিল মা। এরপর মা অদ্ভুত কাজ শুরু করলো। মা'র জোর খাটানোর কোন শক্তি নেই তাই মুখে খাবার,পানি নিতো ঠিকই কিন্তু তা জিভ দিয়ে ঠেলে ফেলে দিতে শুরু করলো। আমি আমার খরচের টাকা দিয়ে মা'র জন্য ঔষধ আনতাম।
 
 সেই ঔষধও মা আর খেতে চাইল না। অনেক চেষ্টা করেও খাওয়াতে পারছিলাম না। মায়ের জোরে কান্নার শক্তি নেই কিন্তু মায়ের চোখ কোণ বেয়ে অঝোরে পানি পড়ে যেত। আমি বুঝতে পারলাম মা এমন কেন করছে। তার এই অবস্থা সহ্য করতে না পেরে একদিন আমি বাবার কাছে গেলাম। পায়ে ধরে কেঁদেকেটে বললাম,"বাবা তুমি এখন বিয়ে করো না।"
"এখন বিয়ে করব নয়তো কখন করব?"
 
আমি খুব কষ্ট করে উচ্চারণ করলাম,"মার হাতে আর তো মাত্র কয়টা দিন। তারপর নাহয় বিয়ে করো।"
"তোমার মা আর কয়দিন পরে মরবে তার ঠিক আছে? এরকম রোগী বছরও বাঁচে। আমি এতো দিন অপেক্ষা করতে পারব না। মেয়ে দেখতেছি, পছন্দ হলে বিয়ে করে নিয়ে আসব। ভালো না লাগলে মাকে নিয়ে নানাবাড়ি চলে যাও।"
 
এই কথা শোনার পর আমি আর বলতে পারলাম না মা শোকে খাওয়া ছেড়ে দিয়ে শুধু কাঁদছে। কারণ বাবার কাছে আমার মা'র আর কোন কদর নেই। বললে হয়ত বাবা আরো নিষ্ঠুর ব্যঙ্গ আমার মা'কে নিয়ে।
 
এই ঘটনার পর বেশিদিন আমার মা বেঁচে থাকল না। বাবার দ্বিতীয় বিয়ের তারিখ ঠিক হয়েছিল। তার পাঁচ দিন আগে আমার মা মারা গেল।
মা মারা যাওয়ার পর তিনদিন বাবা লোক দেখানো শোক পালন করল। এরপর চল্লিশ দিনও অপেক্ষা না করে পনেরো দিনের মাথায় বিয়ে করে বউ ঘরে তুলল। 
 
মা ছাড়া বাড়িতে আমার দম বন্ধ লাগছিল। আমার সামনে
আমার মা'র কষ্টে সাজানো গোছানো সংসারে আজ অন্য একজন দখল করেছে। আমার মা'র আসনে আজ অন্য কেউ বসে। আমার মা'র প্রতিটা জিনিস অন্য কেউ ব্যবহার করছে। আমার বাবা শুরু থেকে এতো বড়লোক ছিল না। 
 
মাত্র পনেরোশত টাকা বেতনের চাকরি করতো। বাবা আজ এতোদুর উঠে এসেছে শুধুমাত্র আমার মা'র জন্য। মা বাবাকে ব্যবসায় লাগিয়ে দিয়েছিল। কতো কষ্ট করেছে আমার মা। অথচ জীবনের শেষ দিনগুলোতে বাবাকে পাশে পায়নি। অজস্র অনাদর অবহেলা সয়ে আমার মা বিদায় নিয়েছে।
মানুষের সহ্যেরও একটা সীমা থাকে।
 
 আমার সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। বাবা আর বাবার স্ত্রীর সাথে এক বাড়িতে আমি আর থাকতে পারছিলাম না। দুমাস ইতোমধ্যে কেটে গেছে। মনে হচ্ছিল আর কয়েকদিন এখানে থাকলে আমি বাঁচতে পারব না। একদিন কান্ডজ্ঞান হারিয়ে আমি স্পন্দনের মা সাজিয়া আন্টিকে কল করলাম। নির্লজ্জের মতো বললাম,"আন্টি যেই বিয়ে পাঁচ বছর পর হতো সেটা এখন হলে ক্ষতি কী?"

 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url